পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ নামে একটি গরু উপহার দিয়ে আলোচনায় আসা মো. সোহাগ মৃধা (৩৫)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মারামারি, হত্যাচেষ্টা, নারী নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (১৪ জুন) গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত সোহাগ মৃধা উপজেলার ৩নং আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের মৃত বেলায়েত হোসেন মৃধার ছেলে।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুন বিকেলে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সারমিন সুলতানা, তার স্বামী শাহরিয়ার আহম্মেদ ও ননদ মাহিনুর বেগম নিজ বাড়ির বৈঠকখানায় বসে পারিবারিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এ সময় পূর্ব বিরোধের জেরে সোহাগ মৃধাসহ কয়েকজন অভিযুক্ত সংঘবদ্ধভাবে বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, হামলাকারীরা শাহরিয়ার আহম্মেদকে টেনে-হিঁচড়ে উঠানে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে সোহাগ মৃধা হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ দেয়ার চেষ্টা করলে তিনি সরে যাওয়ায় কোপটি তার বাম চোখের ভ্রুর ওপর লাগে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সারমিন সুলতানা ও মাহিনুর বেগম হামলার শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, মাহিনুর বেগমের গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়া হয়। এছাড়া হামলার সময় দুই নারীর শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এ ঘটনায় মির্জাগঞ্জ থানায় মামলা রুজু করা হয়। মামলাটির তদন্ত করছেন এসআই অনুপ দাস।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর সোহাগ মৃধার পিসিপিআর (চঈচজ) যাচাই করে তার বিরুদ্ধে মারামারি, পর্নোগ্রাফি, নারী ও শিশু নির্যাতন, চাঁদাবাজি, মাদক ও চুরিসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সোহাগ মৃধাকে রোববার আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এম এইচ/














Discussion about this post