বরিশালের বাবুগঞ্জে একটি ভাড়া বাসা থেকে তাহমিনা বেগম (৬৫) নামের এক নারীর পচন ধরা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার নতুন হাট এলাকার ওই বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, এক থেকে দুইদিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি।
নিহত তাহমিনা বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামের মৃত কদম আলী হাওলাদারের স্ত্রী। প্রায় তিন মাস ধরে তিনি নতুন হাট এলাকার ওই ভাড়া বাসায় একাই বসবাস করছিলেন।
বাসার মালিক আব্দুল বারেক জানান, প্রায় তিন মাস আগে তাহমিনাকে ওই বাসায় ভাড়া রাখেন তার বড় ভাই রমিজ উদ্দিন। তাহমিনা প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন। মাঝেমধ্যে বাজারের বিভিন্ন দোকানে ঘোরাফেরা করতেন। তবে গত দুইদিন তাকে বাইরে দেখা যায়নি।
তিনি জানান, শনিবার বিকেল থেকেই বাসার আশপাশে দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। প্রথমে পাশের কোনো কক্ষে ইঁদুর মারা যাওয়ায় এমন গন্ধ ছড়াচ্ছে বলে ধারণা করেছিলেন তিনি। রোববার সকালে দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে তাহমিনার কক্ষ থেকে গন্ধ আসার বিষয়টি বুঝতে পারেন।
পরে খবর পেয়ে তাহমিনার বড় ভাই বাসায় আসেন। কক্ষের দরজা কিছুটা খোলা দেখে ভেতরে ঢুকে বোনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগে স্বামী কদম আলী হাওলাদারকে হারান তাহমিনা। তখন তার চার সন্তান ছিল। সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে স্বামীর বসতঘর বিক্রি করে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে প্রায় ১০ বছর কাজ করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সন্তানদের লালন-পালন করেন এবং প্রতিষ্ঠিত করেন।
তার বড় ছেলে সুমন ঢাকার উত্তরায় বসবাস করেন। সেখানে তার ছয়তলা ভবন ও বৈদ্যুতিক বোর্ড তৈরির কারখানা রয়েছে। ছোট ছেলে আওলাদও ঢাকায় কাজ করেন। দুই মেয়ে হীরা ও মুক্তার বিয়ে দিয়েছেন। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন পরিশ্রম করলেও শেষজীবনে তাহমিনাকে একাই থাকতে হয়েছে ভাড়া বাসায়।
প্রতিবেশী শাহানা বেগম জানান, প্রায় তিন মাস আগে তাহমিনা ওই বাসায় আসেন। তার কাছ থেকে তারা জানতে পেরেছিলেন, তাহমিনা কয়েকবার স্ট্রোক করেছেন। তার পা প্রায়ই ফুলে থাকত। হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগতেন তিনি। ঠিকমতো খাওয়াদাওয়াও করতেন না। দিনের বেশিরভাগ সময় বাজারের বিভিন্ন দোকানে ঘোরাফেরা করতেন।
বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, নিহতের বড় ভাইয়ের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এক থেকে দুই দিন আগে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে তাহমিনার ছেলে-মেয়েরা কেউ গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনেরা প্রথমে পুলিশকে মরদেহ নিয়ে ময়নাতদন্তে পাঠাতে বাধা দেন। গণমাধ্যমকর্মীদের তথ্য সংগ্রহেও বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
এস আই/














Discussion about this post