রাজধানীর ডেমরায় পবিত্র কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করা ৭০ শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা দিয়েছে মাদ্রাসা আবু হুরায়রা (রহ.)। একই আয়োজনে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভালো ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদেরও পুরস্কৃত করা হয়।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ডেমরার মধুবাগ-পাড়াডগার এলাকায় মাদ্রাসাসংলগ্ন বালুর মাঠে ‘৭০ জন হাফেজে কোরআনের সেলিব্রেশন ও কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ২০২৬’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ছিল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শিক্ষা প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজন। রাতে অনুষ্ঠিত মূল পর্বে পবিত্র কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করা ৭০ শিক্ষার্থীকে পাগড়ি পরিয়ে সম্মাননা দেওয়া হয়। তাদের পাগড়ি পরিয়ে দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহিব্বুল্লাহ বাকী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামি। প্রধান মেহমান ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আলহাজ নবী উল্লাহ নবী। বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান ফেরদৌস হোসেন রনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসা আবু হুরায়রা (রহ.)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ মুসা খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মল্লিক আহসান উদ্দিন সামি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এ ধরনের আয়োজন শিশুদের মেধা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের চর্চায় উৎসাহিত করবে।
প্রধান মেহমান আলহাজ নবী উল্লাহ নবী বলেন, কোরআনের হাফেজ তৈরির পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ সময়ের দাবি। এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভবিষ্যৎ সমাজ ও দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
বিশেষ মেহমান ফেরদৌস হোসেন রনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের পারদর্শী করে তোলা জরুরি। দুই ধরনের শিক্ষার সমন্বয় শিক্ষার্থীদের আদর্শ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।
সভাপতির বক্তব্যে মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ মুসা খান বলেন, শিক্ষার্থীদের একদিকে পবিত্র কোরআনের হাফেজ এবং অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তোলাই প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। ৭০ জন শিক্ষার্থীর এই সাফল্য শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আগামী দিনেও এ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দাবি, সাধারণ শিক্ষা ও হিফজ শিক্ষার সমন্বয়ে বাংলাদেশে এ ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নে তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৭ সালে কওমি শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ৪০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মানচিত্রদেখুন
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে শিক্ষার্থীরা কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, ইংরেজি বক্তব্য, গজল এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও বিষয়ভিত্তিক নাটিকা পরিবেশন করে। পাশাপাশি ‘সিরাত মিউজিয়াম’ শীর্ষক বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সেখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও সিরাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়।
এস আই/














Discussion about this post