নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী ভোতে কোশি নদীতে ভোরের আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনায় ধ্বংসস্তূপ ও প্লাবনের নিচে চাপা পড়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে শত শত পর্যটক। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, যাদের এক বিরাট অংশ পাহাড়ি উপত্যকায় ভ্রমণে এসেছিলেন।
বুধবার(২৬ আগস্ট) ভোরের দিকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরাঞ্চলীয় রসুয়া জেলায় এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নেপাল পর্যটন বোর্ড জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় আটকে পড়া দেশি-বিদেশি পর্যটকদের খোঁজে বড় আকারের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
পর্যটন বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, নিখোঁজ ২৯১ জন বিদেশি নাগরিকের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০৫ জন ভারতীয় এবং ৩৭ জন প্রবাসী ভারতীয় (এনআরআই) পর্যটক রয়েছেন। এ ছাড়া ১৭ জন মালয়েশিয়ান, ১২ জন ব্রিটিশ, ৪ জন দক্ষিণ আফ্রিকান, ৩ জন আমেরিকান, ১ জন অস্ট্রেলিয়ান, ১ জন ডাচ নাগরিক এবং আরও ১১১ জন অন্যান্য দেশের পর্যটক রয়েছেন, যাদের পরিচয় এখনো জানা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি স্থানীয় ৯৩ জন নেপালি নাগরিকও এই ঢলে তলিয়ে গেছেন।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে রসুয়া এলাকায় একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ভূকম্পনের ফলেই পার্শ্ববর্তী পর্বত চূড়ায় তীব্র হিমবাহ ধস নামে এবং তা থেকে এই তাণ্ডব চালানো পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও জানান, পাহাড় থেকে বয়ে আসা পানির তীব্র তোড়ে নেপাল সীমান্ত ঘেঁষা চীন অংশেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দুই দেশের উদ্ধারকারী দল সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেছে। এ পর্যন্ত উদ্ধারকাজে যুক্ত নেপালের ২৬ জন পুলিশ সদস্য, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং ৪৪ জন সেনাসদস্য নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে নেপালের রসুয়া ও নুয়াকোট জেলা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ধসে পড়েছে প্রধান সব সড়ক, একাধিক সেতু ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র। সার্বিক যোগাযোগ এবং টেলিযোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ায় শত শত নিখোঁজ পর্যটকের কাছে পৌঁছাতে মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
এস আই/













Discussion about this post