ছেলের কাঁধে মায়ের মরদেহ। ভারী বর্ষণের কারণে তলিয়ে যাওয়া সড়কের বুকসমান নোংরা পানি পেরিয়ে সেই মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কবরস্থানে। ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকার ফালডাঙ্গী গ্রামের এমন এক দৃশ্য দেখে বিস্মিত সবাই।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান ফালডাঙ্গী গ্রামের নুরুল ও মফিজউদ্দিনের মা ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা মফিজান বিবি। বিকেল ৩টায় তার জানাজার জন্য বকুয়া ইউনিয়নের রাজিউন রহমান হাফেজিয়া মাদরাসা মাঠে নিয়ে যাওয়ার সময় চরম বিপাকে পড়েন স্বজন ও স্থানীয়রা।
ফালডাঙ্গী-নোনা সংযোগ সড়কে কোনো ব্রিজ না থাকায় আড়াই কিলোমিটারের এই পথটুকু পাড়ি দিতে গিয়ে স্বজনদের সইতে হয়েছে অমানুষিক কষ্ট। এই পথের বিকল্প একটি রাস্তা থাকলেও তাতে দূরত্ব বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ছয় কিলোমিটার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকে এই ভোগান্তিতে দিন কাটছে ফালডাঙ্গী, দস্তমপুরসহ চার গ্রামের মানুষের। বর্ষা এলেই তাদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়, এমনকি কোনো মানুষের মৃত্যু হলেও মরদেহ দাফন নিয়ে বাড়ে দুশ্চিন্তা।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার আসে, সরকার যায়। ভোটের সময় প্রার্থীরা এসে বড় বড় আশ্বাস দিয়ে যান, কিন্তু নির্বাচন শেষ হলেই তাদের আর কোনো খোঁজ থাকে না। কয়েক দিন আগেই গ্রামের মানুষ নিজেদের টাকা ও পরিশ্রমে একটি রাস্তা বানিয়েছিল, কিন্তু মাত্র দুদিনের বৃষ্টিতেই তা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।’
এলাকাবাসীর এই ভোগান্তি শুধু মরদেহ দাফনেই সীমাবদ্ধ নয়। বর্ষাকালে কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে সময়মতো তাকে হাসপাতালে নেয়ার কোনো উপায় থাকে না। কৃষকেরা তাদের কষ্টার্জিত ফসল বাজারে নিতে পারেন না, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়। একবিংশ শতাব্দীতে এসেও এখানকার যোগাযোগব্যবস্থা যেন আদিম যুগের কথা মনে করিয়ে দেয়। বছরের পর বছর ধরে চলা এই নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি চান ভুক্তভোগী চার গ্রামের মানুষ।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ফালডাঙ্গী-নোনা সংযোগ সড়কে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ ও রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হোক। এতে অন্তত লাশ নিয়ে পানির ওপর দিয়ে যেতে হবে না এবং জনমনে স্বস্তি ফিরবে।
এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চন্দন কর বলেন, ‘মরদেহ দাফন করতে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও আমার চোখে পড়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ওই সড়কে একটি ব্রিজ প্রয়োজন। যত দ্রুত সম্ভব এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সূত্র: বাংলা টিভি
এস আই/














Discussion about this post