ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়া দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সাজা বহাল থাকার পর সোমবার ভোরে ওমিদ বেহজাদ এবং পুরিয়া সাফভাত নামের ওই দুই ব্যক্তির ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
বিচার বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের সময় মোসাদ ইরানের ভেতরে এজেন্ট নিয়োগ ও নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা চালায়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ওমিদ বেহজাদ যুদ্ধের পুরো সময়ে দেশের বিভিন্ন সামরিক, আইন প্রয়োগকারী এবং নিরাপত্তা কেন্দ্রের অবস্থান ও স্থানাঙ্ক ম্যাপিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংগ্রহ করে মোসাদ-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কে পাঠাতেন। ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের সঙ্গে যুক্ত একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের প্রশাসক তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, এসব তথ্য যাচাই করে সরাসরি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) টার্গেট ব্যাংকে যুক্ত করা হবে।
অন্যদিকে, পুরিয়া সাফভাত ইরান ইন্টারন্যাশনাল টেলিভিশন নেটওয়ার্কে কৌশলগত বিভিন্ন স্থাপনার ছবি ও তথ্য সরবরাহ করতেন, যা মোসাদের যোগাযোগ ব্যবস্থারই অংশ ছিল। তার সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কিছু স্থানে পরবর্তীতে বোমা হামলাও চালানো হয়। এছাড়া, সংঘাত চলার সময় তিনি উঁচু ভবন থেকে দেশের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোপন ভিডিও ধারণ করে তা সম্প্রচার করেছিলেন।
ইসলামিক রেভোল্যুশনি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখার হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে শত্রুরাষ্ট্রের সঙ্গে গোয়েন্দা সহযোগিতা ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ প্রমাণিত হয়। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সব আইনি প্রক্রিয়া ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার পর এই সাজা কার্যকর করা হলো।
সূত্র: মেহের নিউজ
এস আই/














Discussion about this post