বিদ্যমান অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, নতুন সরঞ্জাম সংযোজন, অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সেনাদের মনোবল শক্তিশালী করার মাধ্যমে সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আক্রমিনিয়া। এর মধ্য দিয়ে যুদ্ধের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি।
ইরানের একটি আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব পদক্ষেপ একযোগে বাস্তবায়নের ফলে সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও জানান তিনি।
আক্রমিনিয়া বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধ সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নির্ভর করে ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও আধুনিকায়নের ওপর। সেনাবাহিনী নিজস্ব প্রকৌশল ও কারিগরি সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বিদ্যমান সামরিক সরঞ্জাম পুনর্গঠন ও উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত কার্যক্রম নয়; বরং প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশের বৃহত্তর প্রতিরক্ষা কৌশলের অংশ।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আরও বলেন, নতুন সামরিক সরঞ্জাম বিভিন্ন ইউনিটে যুক্ত হওয়ায় বর্তমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুদ্ধাস্ত্র ও সরঞ্জামের পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশের প্রতিরক্ষা নীতিতে আকাশ প্রতিরক্ষা অন্যতম সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। জটিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বহুমাত্রিক হুমকির প্রেক্ষাপটে দেশের আকাশসীমা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সেনাদের মনোবল ও প্রেরণাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, অস্ত্র-সরঞ্জাম গুরুত্বপূর্ণ হলেও একটি বাহিনীর প্রকৃত শক্তি নির্ভর করে সদস্যদের বিশ্বাস, শৃঙ্খলা, মানসিক প্রস্তুতি এবং দায়িত্ব পালনের দৃঢ় প্রত্যয়ের ওপর। বর্তমানে ইরানের সেনাসদস্যরা ‘জিহাদি চেতনা’ ও উচ্চ মনোবল নিয়ে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত রয়েছেন।
অতীতের যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে আক্রমিনিয়া বলেন, দেশীয় সক্ষমতা এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করে ইরানের সেনাবাহিনী বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছে। ভবিষ্যতের সম্ভাব্য হুমকি বিবেচনায় রেখে বাহিনী সার্বক্ষণিকভাবে নিজেদের যুদ্ধ সক্ষমতা আরো উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি
এস আই/














Discussion about this post