সাতসকালে মর্মান্তিক দুই দুর্ঘটনা ঘটে গেছে সিলেট ও বগুড়ার সড়কে। এই দুই দুর্ঘটনায় ঝরে গেছে ১৫ প্রাণ। সেইসঙ্গে আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সিলেটের ওসমানীনগরে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৭টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাশিকাপন অংশে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ৮ জন; সেইসঙ্গে আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকালে ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাশিকাপনে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহন ও একটি সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ফলে ইউনিক বাসটি খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ইউনিক পরিবহনের সাত যাত্রী মারা যান এবং আহত এক শিশুকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। ১৩ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
এর আগে, ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে আরেকটি বড় দুর্ঘটনা ঘটে গেছে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে। বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়ায় বাসচাপায় প্রাণ হারিয়েছেন সড়কের পাশে অপেক্ষমাণ ৭ জন শ্রমিক। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন।
আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- বগুড়া সদর উপজেলার ফাপড় এলাকার বেলাল, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আমিরুল এবং নূর আলম নামের এক ব্যক্তি। বাকিদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হতাহতরা সবাই কাজের সন্ধানে ভোরে এরুলিয়া বাজারে বসা শ্রমিকের হাটে এসেছিলেন।
জানা গেছে, রংপুর, গাইবান্ধা, পাবনাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দিনমজুরেরা প্রতিদিন ভোরে এরুলিয়া বাজারের এই হাটে কাজের সন্ধানে জড়ো হন। স্থানীয় গৃহস্থরা এখান থেকেই দৈনিক মজুরিতে শ্রমিক সংগ্রহ করেন। আজ ভোরে ঢাকা থেকে নওগাঁ অভিমুখী ‘শাহ ফতেহ আলী পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দিনমজুরদের ওপর উঠে যায়। ব্রেক করার কারণে বাসটি উল্টো ঘুরে বগুড়ামুখী হয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তিন শ্রমিক নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও তিনজন মারা যান।
দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ দিনমজুর ও স্থানীয় বাসিন্দারা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এই স্থানে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে স্থায়ী গতিরোধক নির্মাণের দাবি জানান তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কোনো যানবাহন চলতে দেওয়া হবে না বলে জানান আন্দোলনকারীরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বগুড়া সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম বলেন, বাসচাপায় ঘটনাস্থলে তিনজন ও পরে হাসপাতালে আরও তিনজন মারা গেছেন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার ও সড়ক সচল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
এস আই/














Discussion about this post