জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের স্ত্রী দিলারা হাফিজ মারা গেছেন।
শনিবার সকাল ১১টা ২৯ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
দিলারা হাফিজের ছেলে শাহরুখ হাফিজ বলেন, “আম্মু আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।”
পরিবারের সদস্যরা জানান, গেল ২১ মার্চ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল-সিএমএইচ থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয় অধ্যাপক দিলারা হাফিজকে। সেখানে তাকে ভেন্টিলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তার চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।
শুক্রবার থেকে দিলারা হাফিজের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।
শনিবার সকালে মেডিকেল বোর্ডের বৈঠকের পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করা হয় বলে জানান তার ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রোববার বাংলাদেশ বিমানে তার কফিন ঢাকায় নিয়ে আসা হবে। পরের দিন ৩০ মার্চ জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বেলা ১১টায় এবং বাদ জোহর সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বনানীর সামরিক কবরাস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
অধ্যাপক দিলারা হাফিজের বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি স্বামী, দুই ছেলে এবং এক মেয়ে রেখে গেছেন।
দিলারা হাফিজ ১৯৪৯ সালের ২ জানুয়ারি সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মোহাম্মদ আবুল হোসেন চৌধুরী এবং মা করিমুন্নেছা খাতুন চৌধুরী।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল নিয়ে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিলারা হাফিজ। ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক সন্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।
তার কর্মজীবন শুরু হয় সরকারি ইডেন মহিলা কলেজে প্রভাষক হিসেবে। কর্মজীবনে তিনি সোহরাওয়ার্দি কলেজ ও ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যাক্ষ ছিলেন।
এছাড়া অধ্যাপক দিলারা হাফিজ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে চেয়ারম্যান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ, অন্যান্য হুইপ, সংসদ সদস্যরা, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এম এইচ/














Discussion about this post