বগুড়ায় প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে নিখোঁজ এক মেয়ে শিশু বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে সান্তাহার পৌরসভার সাহেবপাড়া এলাকার আমজাদ হোসেনের বাড়ির একটি কক্ষ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয় বলে আদমদীঘি থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়া জানিয়েছেন।
নিহত ছয় বছর বয়সী রাকিকা আক্তার রাকা সান্তাহার পৌরসভার ইয়ার্ড কলোনি নূরানি মাদ্রাসার শিশু শ্রেণির ছাত্রী; তার বাবা রায়হান আলী।
তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
রায়হান বলেন, “বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে রাকা প্রতিদিনের মতো প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় আসায় আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। “রাকাকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়িতে বিষয়টি জানাই। পরে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি।”
তিনি বলেন, “রাত সাড়ে ১০টার দিকে খবর আসে, সান্তাহার পৌরসভার সাহেবপাড়া এলাকার আমজাদ হোসেনের বাড়ির শয়নকক্ষ-সংলগ্ন একটি কক্ষে সাদা প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর রাকার মরদেহ পাওয়া গেছে।
“এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন প্রধান সন্দেহভাজন আমজাদ হোসেনকে আটক করে রাখে।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, খবর পেয়ে আদমদীঘি থানা ও সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমজাদ হোসেন (৪০), তার স্ত্রী বন্যা (৩২) এবং অপর সহযোগী বাবুকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেন।
এ সময় গণপিটুনিতে আহত হওয়ায় আমজাদ ও তার স্ত্রীকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ওসি কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। “পরে মরদেহটি একটি প্লাস্টিকের বস্তার মধ্যে ভরে ঘরের পাশে রাখা হয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের হেফাজতে নেয়।”
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।
এ ইউ/














Discussion about this post