ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গত দেড় মাসে মসজিদ, মাদরাসা, ঈদগাহ ও দরগাহসহ অন্তত ২৩টিরও বেশি ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙা বা আংশিকভাবে অপসারণের ঘটনা ঘটেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘মুসলিম মিরর’-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব ঘটনা মূলত বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে বেশি ঘটেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারি জমি দখলমুক্তকরণ, অনুমোদনহীন স্থাপনা অপসারণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
তবে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকের অভিযোগ, বহু বছর ধরে ব্যবহৃত ধর্মীয় স্থাপনাগুলোকেও একই অভিযানের আওতায় আনা হয়েছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করা হয় প্রতিবেদনে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, কিছু মসজিদ ও দরগাহ দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযানে এসব স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক জায়গায় প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এসব অভিযান কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নয়; বরং আইন প্রয়োগ ও নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই পরিচালিত হচ্ছে।
ঘটনাগুলোকে ঘিরে মানবাধিকার সংগঠন ও সংখ্যালঘু অধিকার পর্যবেক্ষক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা স্বচ্ছ তদন্ত, জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের আহ্বান জানিয়েছে।
এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্নমুখী প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে—একপক্ষ প্রশাসনের পদক্ষেপকে আইনগত ও উন্নয়নমূলক হিসেবে দেখছে, অন্যপক্ষ ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু অধিকারের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ফলে বিষয়টি জনপরিসরে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এস আই/













Discussion about this post