ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ১৫ বছর বয়সী মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ ও সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বার ঘটনায় অভিযুক্ত লজিং শিক্ষক ও ইমাম মো. আব্দুল্লাহকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ মুক্তাগাছার খেরুয়াজানী ইউনিয়নের ভিটিবাড়ী গ্রামের মো. মিরু মিয়ার ছেলে।
এর আগে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মুক্তাগাছা থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, আব্দুল্লাহ ভুক্তভোগী ছাত্রীর ফুফাতো ভাইয়ের সহপাঠী। সেই সুবাদে ওই ছাত্রীর বাড়িতে লজিং থাকতেন। একই সঙ্গে মসজিদের ইমাম ছিলেন। ছাত্রীর বাবা-মা দুজনেই ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করার কারণে সে বাড়িতে তার দাদির সঙ্গে থাকত।
গত বছরের ২২ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে আব্দুল্লাহ ওই ছাত্রীর পড়ার কক্ষে ঢুকে মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে বললে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তিনি চলে যান। লোকলজ্জা ও ভয়ে ভুক্তভোগী কিশোরী বিষয়টি তখন কাউকে জানায়নি।
পরবর্তীতে ছাত্রীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে দাদির সন্দেহ হলে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান কিশোরী ২৭ সপ্তাহের (প্রায় সাত মাস) অন্তঃসত্ত্বা। পরে পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদে সে আব্দুল্লাহর লিপ্ত থাকার কথা প্রকাশ করে। এ ঘটনা স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে মুক্তাগাছা থানায় মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী কিশোরী বলে, ‘লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি কাউকে বলিনি। এখন সাত মাসের গর্ভবতী। সন্তানের সামাজিক স্বীকৃতি চাই এবং অপরাধীর বিচার চাই।’
মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এর আগে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হলেও সে পালিয়ে যায়। পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে খেরুয়াজানী ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী একটি গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে ঘটনার সত্যতা যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের লক্ষ্যে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে।’
সূত্র: জাগোনিউজ
এস আই/














Discussion about this post