ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সূর্যসেন হলে সমকামিতার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ও এক সমকামী ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) হলের একটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত বহিরাগত ব্যক্তি ব্যানবেইস এ চাকরি করেন বলে জানা গেছে। তার স্থানীয় ঠিকানা ফরিদপুরের ভাঙা উপজেলায় এবং বর্তমানে রাজধানীর মালিবাগে থাকে। তিনি ব্লু অ্যাপসের মাধ্যমে অনেকের কাছে টাকার বিনিময়ে সার্ভিস প্রদান করে।
হল সূত্রে জানা যায়, ঢাবি শিক্ষার্থী একটি অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে পরিচিত এক ব্যক্তিকে হলে আমন্ত্রণ জানান। নির্ধারিত ৩৬৬ নং কক্ষে যাওয়ার পরিবর্তে ওই ব্যক্তি ভুলবশত ৩৬০ নং কক্ষের দরজায় নক করলে সেখানে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের সন্দেহ হয়।
পরে শিক্ষার্থীরা ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে এবং তার মোবাইল ফোনে কথোপকথন যাচাই করে সন্দেহজনক তথ্য পাওয়ার দাবি করেন। এরপর বিষয়টি হল প্রশাসনকে জানানো হয়। খবর পেয়ে হল প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীসহ সমকামী ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
ঘটনার বর্ণনায় মাস্টার দা সূর্যসেন হল সংসদের পাঠকক্ষ সম্পাদক মোহাম্মাদ ইমরান বলেন, আজ সকালের দিকে আমাদের হলের একটি রুমের সামনে একজন বহিরাগতকে পাওয়া যায়। তার অন্য একটি রুমে যাওয়ার কথা থাকলেও ভুলক্রমে তিনি আরেকটি রুমের সামনে চলে যান। ওই রুমের যে আবাসিক শিক্ষার্থী আছেন তারা তাকে জিজ্ঞাসা করে আমাদের হলের অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে তাদের দুইজনের মোবাইলে সমকামীদের যোগাযোগ করার একটি অনলাইন অ্যাপ পাওয়া যায় ও সেখানে তাদের যোগাযোগের বিষয়টি বেরিয়ে আসে।
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা তৎক্ষণিক আমরা হল প্রশাসনকে জানাই। এবং হলের প্রাধ্যক্ষ ও হাউজ টিউটররা এসে প্রাধ্যক্ষের রুমে তাদের নিয়ে যায় এবং সেখানেই তারা দুইজনেই স্বীকারোক্তিমূলক মুচলেকা দেয়। এবং তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আমাদের হলের ২২-২৩ সেশনের অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সিট বাতিল করা হয়েছে ও প্রক্টরিয়াল টিমের সাহায্য শাহাবাগ থানায় আইনের ধারা অনুযায়ী হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দেওয়া হয়।
এ ঘটনার বিষয়ে মাস্টারদা সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মো. রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে এখনই কোনো রকম মন্তব্য করবেন না বলে জানিয়েছেন গণমাধ্যমকে।
এ ইউ/














Discussion about this post