নভেম্বরের শুরুতেই মালয়েশিয়াগামী কর্মীদেরর মেডিক্যাল পরীক্ষা শুরু হবে জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেছেন, ‘দু-চারদিন পরে মেডিক্যাল করার পরেই কর্মীরা যেতে পারবে। নভেম্বর এক তারিখ বা নভেম্বরের ফার্স্ট উইকে আমরা বলতে পারি যে ফ্লাইট উইল স্টার্ট।’
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে উইটনেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত অভিবাসন সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল হক বলেন, ‘মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা সাপেক্ষে মন্ত্রণালয়ও আমাদের ওয়েবসাইটেও মেডিক্যালগুলোর তালিকা দিয়ে দেবে। তারাও তাদের ওয়েবসাইটে দেবে। মেডিক্যালের বিষয়ে আলাপ আলোচনা হয়েছে। মেডিক্যাল খরচটা আজকে আমরা বসে নির্ধারণ করে দেবো। আর যাওয়ার ক্ষেত্রে মোটামুটি কত টাকা খরচ হতে পারে, আশা করা যায়, নভেম্বরে এভ্রিথিং উইল বি ওপেন।’
কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় নিয়োগকর্তাদের চাহিদাপত্র যাচাই ও সত্যায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ দেশটিতে কর্মী নিয়োগের জন্য ৩৩৮টি বড় আকারের লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়েছে। এসব নিয়োগকর্তার চাহিদাপত্র মালয়েশিয়ার ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস) এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের সার্ভিস সেন্টারে জমা দেয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ দূতাবাসের সত্যায়ন ছাড়া কোনো চাহিদাপত্র গ্রহণ করা হবে না।
প্রথম পর্যায়ে বোয়েসেলের মাধ্যমে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা থাকলেও তাদের বিদেশযাত্রা সম্পূর্ণ বিনা খরচে হবে না। বিমান ভাড়া, মেডিকেল পরীক্ষা ও সার্ভিস চার্জসহ একজন কর্মীর মোট ব্যয় ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার মধ্যে হতে পারে।
অন্যদিকে, বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে খরচ কত হবে, তা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি রাখার কথা জানিয়েছে সরকার।
এদিকে, অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোর তালিকা প্রকাশের পর কর্মীরা কোথায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাবেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তাই তালিকা প্রকাশের আগে অনুমোদনহীন কোনো প্রতিষ্ঠানে মেডিকেল পরীক্ষা না করানোর পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এ-সংক্রান্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের আগে সরকারি নির্দেশনা যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করা গেলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমে সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর পরবর্তী ধাপে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ইউ/














Discussion about this post