ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরও সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে দেশটির পরবর্তী সরকার কে গঠন করবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রকাশিত চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ও তার কট্টর ডানপন্থী মিত্ররা পেয়েছে ৫৩টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। ২০২২ সালের নির্বাচনে এই জোট পেয়েছিল ৬৪টি আসন। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আর দুটি আরব দল পেয়েছে ১৯টি আসন, যা তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
চূড়ান্ত ফলাফলে সামান্য সংশোধনের সুযোগ থাকলেও তা সরকার গঠনের হিসাব বদলে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে না। ফলাফল আগামী ৪ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে জমা দেওয়া হবে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলো ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত ফল নিয়ে অভিযোগ বা আইনি চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে।
এরপর প্রেসিডেন্ট দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে এমন একজনকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন, যিনি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা রাখেন। দলগুলোর সুপারিশ বিবেচনায় আইজেনকট প্রথমে এ দায়িত্ব পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার পর এটিই দেশটির প্রথম জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচনটি নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর এক ধরনের গণভোট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। ভোটার উপস্থিতিও ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
নির্বাচনে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল করেছেন নেতানিয়াহু। আরব দলগুলোর রাজনৈতিক প্রভাব এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগকে সামনে রেখে তিনি প্রচার চালান। অন্যদিকে, আইজেনকট নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ তুলেছেন।
তবে বিরোধী শিবিরের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করা। তাদের সামনে দুটি পথ রয়েছে। আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করা, অথবা নেতানিয়াহুর সঙ্গে ঐক্য সরকারে যাওয়ার চেষ্টা করা। ইসরায়েলের অধিকাংশ ইহুদি রাজনৈতিক দল আরব দলগুলোকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার বিরোধী।
ইসরায়েলের নিয়ম অনুযায়ী, সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়া প্রার্থীকে এ জন্য ২৮ দিন সময় দেওয়া হয়। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো যেতে পারে। প্রথম প্রার্থী ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য প্রার্থীদেরও সুযোগ দিতে পারেন। সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে নতুন নির্বাচন আয়োজনের পথ খুলে যাবে।
এ ধরনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা ইসরায়েলের জন্য নতুন নয়। ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে সরকার গঠন নিয়ে দীর্ঘ অচলাবস্থার কারণে দেশটিতে পাঁচবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নতুন সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
এস আই/














Discussion about this post