ফরিদপুরের সদরপুরে দাফনের ১০ মাস পর কবর থেকে তরুণীর মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। রোববার (১৪ জুলাই) দুপুরে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের শৌলডুবি গ্রামের মদিনাতুল কবরস্থান থেকে মরদেহটি তোলার পর ডিএনএ টেস্টের জন্য স্যাম্পল নেয়া হয়।
জানা যায়, ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণপুর ইউনিয়নে শ্বশুরবাড়ি থেকে বিদ্যুৎ বিল দেয়ার কথা বলে বাজারের উদ্দেশে বের হন হাসি আক্তার। সেই থেকে হাসি বেগমকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনায় তার বাবা শেখ হাবিবুর রহমান সদরপুর থানায় একটি অভিযোগ করেন।
অভিযোগে তিনি জানান, তার কন্যা হাসি আক্তারকে হত্যার পর মরদেহ গুম করেছে মেয়ে জামাই মোতালেব শেখ। অপরদিকে হাসির স্বামী মোতালেব শেখ সদরপুর থানায় পাল্টা অভিযোগ করেন-তার স্ত্রী নগদ টাকাসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে বাবাবাড়ি পালিয়ে গেছেন।
২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের আদমপুর এলাকার নাউটানা খালের কচুরিপানার ভেতর থেকে অর্ধগলিত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ভাঙ্গা থানা পুলিশ। খবর পেয়ে সেই মরদেহ হাসি আক্তারের বলে দাবি করে তার পরিবার। নিখোঁজ হাসি আক্তারের মা সালমা বেগম মরদেহের কোমরে একটি তাবিজ ও পায়ের একটি নখ ছোট থাকায় শনাক্ত করলে ময়নাতদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শৌলডুবী মদিনাতুল কবরস্থানে মরদেহ দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এ ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা থেকে হাসি আক্তার মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে বলে তিনি জীবিত রয়েছেন। পাঁচদিন পর বাড়ি ফিরে হাসি আক্তার জানান পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে বাড়ি থেকে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যান তিনি। ওই সময় জনমনে প্রশ্ন ওঠে তবে দাফনকৃত মরদেহটি কার?
এ ঘটনার পর ভাঙ্গা থানার মানিকদাহ ইউনিয়নের ফাজিলপুর গ্রামের বাসিন্দা ইয়াদ আলী ব্যাপারী দাবি করেন, মরদেহটি তার মেয়ে কল্পনা বেগমের (২৬)। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে ম্যাজিস্ট্রেট ও সদরপুর থানা পুলিশের উপস্থিতিতে রোববার দুপুরে দীর্ঘ ১০ মাস পর কবর থেকে মরদেহটি তোলা হয়।
কল্পনা প্রতিদিনই ফরিদপুরের জোবাইদা করিম জুট মিলে বাড়ি থেকে গিয়ে কাজ করতেন। কিন্তু ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি আর ফরিদপুর থেকে ফিরে আসেননি। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজির পর কল্পনার বাবা ভাঙ্গা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বদরুজ্জামান রিশাদ বলেন, ‘কবর থেকে আজ মরদেহ উত্তোলন করেছি এবং সেখান থেকে স্যাম্পল সংগ্রহ করেছি। ফরেনসিক বিভাগের তথ্য পাওয়ার পর জানা যাবে আসলেই মরদেহটি ইয়াদ আলির মেয়ের কি না।’
মরদেহ উত্তোলনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) তালাত মাহমুদ সাহেন শাহ, ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. মো. ইউনূস আলী, মানিকদাহ ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বাচ্চু।
এ এ/














Discussion about this post