হিমাচল প্রদেশের সিরমৌর জেলার শিল্লাই গ্রামে সম্প্রতি ঘটে গেছে ব্যতিক্রমী একটি বিয়ে—এক তরুণী বিয়ে করেছেন দুই ভাইকে। ১২ জুলাই আয়োজিত এই বিয়ের পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভারতের আইন অনুযায়ী বহুবিবাহ নিষিদ্ধ হলেও হিমাচলের হাত্তি সম্প্রদায়ের মধ্যে বহু প্রাচীনকাল ধরে এই প্রথা চালু রয়েছে। প্রচলিত এই প্রথার নাম—‘জোড়িদার’। জোড়িদার হলো- হাত্তি সম্প্রদায়ের মধ্যে একই মহিলার সঙ্গে একাধিক পুরুষের (যাঁরা সম্পর্কে ভাই) বিয়ের ঘটনা।
পাত্র কপিল নেগি এবং প্রদীপ নেগি—দুই ভাই। পাত্রী সুনীতা চৌহান। সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, বিয়ে স্থানীয় রীতি মেনেই হয়েছে। ছিল লোকসঙ্গীত, লোকনৃত্য ও স্থানীয় ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান।
হাত্তি সম্প্রদায়ের এই ‘জোড়িদার’ প্রথায় একই মহিলার সঙ্গে একাধিক ভাইয়ের বিয়ে করার রীতি রয়েছে। মূলত পারিবারিক কৃষিজমি ভাগ হয়ে না যায়, সেই উদ্দেশ্যেই এই প্রথা চালু হয় বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় হাত্তি সমিতির সাধারণ সম্পাদক কুন্দন সিংহ শাস্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘হাজার হাজার বছর আগে এই প্রথা শুরু হয়েছিল। পারিবারিক জমি যেন বারবার ভাগ না হয়, সে কারণে ভাইয়েরা একই স্ত্রীকে বিয়ে করতেন। এতে পারিবারিক ঐক্য বজায় থাকত এবং বৃহৎ পরিবারে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বাড়ত।’
বিয়ের এই রীতি স্থানীয়ভাবে ‘সিঞ্জ’ নামে পরিচিত। বরদের বাড়িতেই বিয়ের আয়োজন হয় এবং পুরোহিত স্থানীয় ভাষায় মন্ত্র পাঠ করেন।
২০২২ সালে হাত্তি সম্প্রদায়কে তফসিলি উপজাতির স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। হিমাচলের তফসিলি উপজাতি অধ্যুষিত অন্যান্য অঞ্চল যেমন কিন্নর ও জৌনসর বাবর এলাকাতেও এই প্রথা প্রচলিত রয়েছে।
তবে শিক্ষার প্রসার ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় এই প্রথা এখন ক্রমেই বিলুপ্তির পথে। যদিও সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, শুধুমাত্র সিরমৌরের বধনা গ্রামেই গত ছয় বছরে এমন পাঁচটি বিয়ের ঘটনা ঘটেছে।
সূত্র: আনন্দবাজার
এস এইচ/














Discussion about this post