এবারের বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস লিখেছে মিশর। প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে জয়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রথমবার জয় পেয়েছিল নকআউটেও। কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও দারুণ লড়াই করেছিল আফ্রিকার দলটি। যদিও বিতর্কিত ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পরও হেরেছিল ৩-২ গোলের ব্যবধানে।
মিশরের এমন সাফল্যের পেছনে বড় অবদান দলটির প্রধান কোচ হোসাম হাসানের। ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর দলের চেহারা পরিবর্তন করে দিয়েছেন তিনি। এবার সেটার পুরস্কার পেলেন হোসাম হাসান। নতুন করে তার সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)। বুধবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির ফেডারেশন।
এক বিবৃতিতে ইএফএ সভাপতি হ্যানি আবু রিদা জানান, ‘অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালনা পর্ষদ প্রধান কোচ হোসাম হাসান এবং দলের পরিচালক ইব্রাহিম হাসানের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি সানন্দে অনুমোদন করেছে।’
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন চুক্তির আওতায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত ফারাওদের ডাগআউটে দেখা যাবে এই অভিজ্ঞ কোচকে। অবশ্য আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তি ছাড়াই এবারের বিশ্বকাপে মিসরের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। গত ফেব্রুয়ারিতে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিশ্বকাপের আগে আর তার সঙ্গে নতুন করে চুক্তির মেয়াদ বাড়ায়নি ফেডারেশন।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিসরের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দলের পারফরম্যান্সে আমূল পরিবর্তন এনেছেন ৫৯ বছর বয়সী এই কোচ। তার হাত ধরে দলটি ২০২৫ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে সেমিফাইনাল খেলার গৌরব অর্জন করে।
এবারের বিশ্বকাপে এসে যেন তিনি এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন ফারাওদের। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-১ গোলের দারুণ জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেয় তারা। এরপর বেলজিয়াম ও ইরানের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বুক চিতিয়ে লড়ে ড্র করে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় মিসর।
পরবর্তীতে শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্নকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছিল দলটি। শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হোসাম হাসানের রণকৌশল ছিল দেখার মতো। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে তারা জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয় তাদের।
কোচ হওয়ার আগে হোসাম হাসান নিজেও ছিলেন মিসরের ফুটবলের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। খেলোয়াড়ি জীবনে ১৭৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৬৯টি গোল করে তিনি এখনো দেশটির ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের জায়গাটি ধরে রেখেছেন। তার সেই অভিজ্ঞতা এবং মাঠের পারফরম্যান্সকে সম্মান জানিয়েই তাকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য স্থায়ীভাবে রেখে দিল মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
এস আই/














Discussion about this post