দেশব্যাপী নদী-খাল-জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে সরকার। সংশ্লিষ্টদের মতে, খাল পুনরুদ্ধার ছাড়া নদী রক্ষা সম্ভব নয়, কারণ খালগুলোই নদীর পানিপ্রবাহের প্রধান শাখা-উপশাখা হিসেবে কাজ করে। এ কারণে সরকারের চলমান খাল খনন কর্মসূচির ফলে দেশের নদীগুলোতে আবারও প্রাণ ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কাবিখা, কাবিটা ও টিআর কর্মসূচির আওতায় আরও প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার খাল সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলো ভরাট হয়ে গেলে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়, ফলে নদীতে পলি জমে নাব্যতা কমে যায়। বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতারও সৃষ্টি হয়। খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরলে নদীর নাব্যতা ও জীববৈচিত্র্যও পুনরুদ্ধার হয়।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, বহু প্রাচীন খাল দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় দেশের অনেক নদী শুকিয়ে পড়ছে। তাই খাল পুনঃখননের মাধ্যমে নদীর সঙ্গে প্রাকৃতিক সংযোগ পুনঃস্থাপনের কাজ চলছে। কর্মসূচির আওতায় খালপাড় সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে।
পরিবেশবিদরা মনে করছেন, শুধু খনন নয়, খালগুলোকে পুনরায় দখল ও ভরাটমুক্ত রাখতে কঠোর নজরদারিও জরুরি। অন্যথায় কয়েক বছরের মধ্যেই খালগুলো আবার আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মকসুমুল হাকিম চৌধুরী বলেন, নদীকে আলাদাভাবে দেখার সুযোগ নেই। একটি নদীর সঙ্গে অসংখ্য খাল, বিল ও জলাধার যুক্ত থাকে। এসব খাল সচল থাকলে নদীর প্রবাহ, মাছের আবাসস্থল, কৃষিতে সেচ সুবিধা এবং জীববৈচিত্র্যও টিকে থাকে।
এস আই/














Discussion about this post