দীর্ঘদিন গ্যাসসংকটে বন্ধ থাকার পর অবশেষে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় উৎপাদনে ফিরতে পুরোপুরি প্রস্তুত চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)। এরই মধ্যে কারখানার অ্যামোনিয়া প্ল্যান্ট চালু করা হয়েছে এবং কারিগরি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দ্রুতই মূল ইউরিয়া সার উৎপাদনে যাচ্ছে চট্টগ্রাম আনোয়ারার এই সার কারখানাটি।
সার কারখানা সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস সরবরাহ পুনরায় নিশ্চিত হওয়ার পর গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ইউরিয়া উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল অ্যামোনিয়া তৈরির কাজ শুরু হয়। তবে দীর্ঘদিন প্ল্যান্টটি বন্ধ থাকায় ইউরিয়া ইউনিটের কিছু পাইপলাইন ও যন্ত্রাংশে সাধারণ মেরামত ও সুরক্ষামূলক তদারকি চালানো হচ্ছে। এসব মেকানিক্যাল প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেই পুরোদমে শুরু হবে ইউরিয়া উৎপাদন।
সিইউএফএলের মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) এস এম আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, প্রায় এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কারখানাটি চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছে। গ্যাস পাওয়ার পরপরই অ্যামোনিয়া উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়েছে। ইউরিয়া প্ল্যান্টের সাময়িক যান্ত্রিক প্রস্তুতি শেষ করে শিগগিরই কারখানার সার্বিক উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হবে।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) এক কর্মকর্তা জানান, জাতীয় নির্দেশনার আলোকে কৃষিভিত্তিক শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে সার ও বিদ্যুৎ খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। বর্তমানে সিইউএফএলে দৈনিক ৪০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস পৌঁছানো হচ্ছে এবং প্ল্যান্ট চালু রাখা সাপেক্ষে গ্যাসের যোগান আরও বাড়ানো সম্ভব।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক পরিচালিত এই কারখানায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার টন ইউরিয়া সার তৈরি হয়। কারখানাটি পুরোপুরি উৎপাদনে ফিরলে তা দেশের কৃষিখাতে সার সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখবে।
এস আই/














Discussion about this post