আমের লোভ সামলাতে পারা এমন মানুষ পাওয়া খুব কঠিন ব্যাপার।আম অনেক জাতের হয়ে থাকে। প্রতিটি জাতের আমে রয়েছে অনন্য স্বাদ ও গন্ধ। ডায়াবেটিস রোগীরা আম খাওয়া নিয়ে বেশ দ্বিধায় থাকে।
পুষ্টিগুণ থাকা সত্ত্বেও অনেকেই আম খেতে পারেন না। কারণ আমে প্রাকৃতিকভাবেই চিনির পরিমাণ বেশি। তাই এটি খেলে মানুষের শরীরের স্যুগারের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
ড. ভি. মোহন, ডায়াবেটিস স্পেশালিটিস সেন্টারের প্রধান ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ টাইমস অব ইন্ডিয়াতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ‘কাঁচা আম চিনির মাত্রা বাড়ায় না। তবে পাকা আম চিনির মাত্রা বাড়ায়। বিশেষ করে যাদের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস আছে তাদের ক্ষেত্রে। তবে কিছু নিয়ম মেনে খেলে তা আর ক্ষতির কারন হবে না।
২০১৮ সালে প্রকাশিত ‘ম্যাংগো অ্যান্ড ডায়াবেটিস’ শীর্ষক এক গবেষণাপত্রে দেখা গেছে, ডায়াবেটিস রোগীদের আম খাওয়া একে বারেই বন্ধ করে দেওয়া উচিৎ নয়। তবে তাদেরকে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আম খেতে হবে।
এই গবেষণায় বলা হয়েছে, যদি সতর্কতার সাথে আম খাওয়া হয়, তাহলে ডায়াবেটিসের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে না। তবে একসাথে অনেকখানি না খেয়ে অল্প আম খাওয়া উচিৎ। একজন ডায়াবেটিক রোগী দৈনিক ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম আম খেতে পারেন। অথবা, তিনি ৫০ গ্রাম করে তিনবারও দিনের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে আম খেতে পারেন।
ল্যাবএইড হাসপাতালের পুষ্টিবিদ সামিয়া তাসনিম বলেন ‘দুই বেলার মেইন খাবার খাওয়ার পরে আম খাওয়া ভালো। অথবা, খাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা পর আম খাওয়া উচিৎ। আমের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স মাঝারি মাত্রার, ৬০ থেকে ৮৫। তাই বেশি আম খেলে রক্তে শর্করা বেড়ে যেতে পারে। একজন ডায়াবেটিস রোগী দৈনিক একটি ছোট আম বা অর্ধেক মাঝারি আম খেতে পারেন।’
বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান বলেন,
আম বেশি খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অসুবিধা হবে।
তিনি আরও বলেন, এক টুকরো আম খেলে যে সমস্যা হবে , তার চেয়ে বেশি সমস্যা হবে যদি কেউ দুই চামচ পরিমাণ চিনি খান।
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চললে কোনোপ্রকার সমস্যা ছাড়াই ডায়াবেটিস রোগীরা পরিমিত পরিমাণ আম খেতে পারবেন।
এসআই/প্রবাস খবর














Discussion about this post