রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আঁচ এবার নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে কাস্পিয়ান সাগরে। তেহরানের সরাসরি হুমকির জবাবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ইরান ইতোমধ্যেই ইউক্রেনের ওপর আক্রমণ চালিয়ে ফেলেছে। রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন, সামরিক সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তি সরবরাহ করে যুদ্ধের শুরু থেকেই তেহরান মূলতঃ ইউক্রেনবিরোধী অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সম্প্রতি কাস্পিয়ান সাগরে ইরান থেকে রাশিয়ায় সামরিক মালামাল বহনকারী একটি জাহাজে ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেনীয় বাহিনী। এ হামলায় জাহাজে বিস্ফোরণ ঘটে এবং এক ইরানি নাবিক নিহত ও আরেকজন আহত হন। ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা (এসবিইউ) জানায়, জাহাজটি মূলত রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে অস্ত্র ও সামরিক রসদ পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
এই ঘটনার পরপরই ইরান কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইউক্রেনের এ হামলাকে “শত্রুতাপূর্ণ ও অপরাধমূলক” হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “এই আক্রমণের জবাব না দিয়ে থাকা যায় না।” একই সাথে তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের উস্কানিতে এবং ইউরোপকে এই যুদ্ধে জড়ানোর উদ্দেশ্যে ইউক্রেন কাস্পিয়ান সাগরে হামলা চালিয়েছে।
তেহরানের এই হুমকির জবাবে স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন, “যে দেশ যুদ্ধের প্রথম বছর থেকেই রাশিয়াকে হাজার হাজার শাহেদ ড্রোন ও প্রযুক্তি দিয়েছে, তাদের থেকে আলাদা কী আশা করা যায়? তারা তো ইতোমধ্যে আমাদের আক্রমণ করেছে।”
জেলেনস্কি আরও সতর্ক করে বলেন, ইউক্রেন নতুন কোনো যুদ্ধের ফ্রন্ট খুলতে চায় না, তবে উত্তর কোরিয়া ও ইরানের কাছ থেকে সামরিক সহায়তা নিয়ে রাশিয়া যেভাবে আক্রমণ চালাচ্ছে, ইউক্রেনকেও যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
কাস্পিয়ান সাগরে এই পাল্টাপাল্টি ঘটনা ইরান এবং পশ্চিমা বিশ্বের তৈরি উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।
এস আই/














Discussion about this post