নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার পানি ভারত হয়ে বাংলাদেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই ঢলের গতিপথ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বিহার থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত। উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে সিএনএন জানিয়েছে, হিমালয়ের লাংটাং লিরুং চূড়ার কাছে হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, এ ধস থেকেই বন্যার সূত্রপাত। প্রায় একই সময়ে বরফ ও পাথরের বড় একটি অংশ ধসে পড়ে লহেন্দে খোলা নদীতে গিয়ে পড়ে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, লহেন্দে খোলা পরে নেপালের ভোতে কোশি ও ত্রিশুলি নদীর সঙ্গে মিশে যায়। ত্রিশুলি নদীতে বন্যার প্রভাব ছিল ভয়াবহ—মাত্র ৩০ মিনিটে নদীর পানি ৯ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যায়। নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী নদী হওয়ায় এই বন্যার কাদা ও ধ্বংসাবশেষ তিব্বতের শিগাতসে অঞ্চলের গিরং বন্দরে আঘাত হানে।
কোশি হচ্ছে একটি আন্তঃসীমান্ত নদী, যা তিব্বত, নেপাল ও ভারত দিয়ে প্রবাহিত এবং গঙ্গার অন্যতম বৃহত্তম উপনদী। গঙ্গাই বাংলাদেশে এসে পদ্মা নাম নেয়। অর্থাৎ নেপালের পানি প্রথমে ভারতের বিহারে গণ্ডক ও কোশি হয়ে গঙ্গায় পড়বে, তারপর চাঁপাইনবাবগঞ্জ দিয়ে বাংলাদেশে পদ্মা হিসেবে ঢুকতে পারে।

এদিকে তিব্বত-নেপাল সীমান্তে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যার পর গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ২৭ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের ভেরিফায়েড আইডিতে একটি পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছেন আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ।
কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ লিখেছেন, ‘তিব্বত-নেপাল সীমান্তে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পানি ভোটি কোশি ও ত্রিশুলি নদী হয়ে নারায়নি-গন্ধক নদীব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতের বিহার রাজ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশন এরই মধ্যে গন্ধক নদীর ভাটি এলাকায় সম্ভাব্য আকস্মিক পানি বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। বিহার রাজ্য সরকারও ভালমিকিনাগরের গন্ধক বাঁধের ৩৬টি গেট (সব কয়টি গেট) খুলে দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
গন্ধক নদীর এই অতিরিক্ত পানি বিহারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে হাজিপুর-সনিপুর এলাকার কাছে গঙ্গা নদীতে মিলিত হবে। এরপর গঙ্গার মূল প্রবাহের সঙ্গে পূর্বদিকে অগ্রসর হয়ে ফারাক্কা বাঁধ অতিক্রম করে বাংলাদেশের গঙ্গা নদীতে প্রবেশ করবে এবং পরবর্তীতে যমুনার সঙ্গে মিলিত হয়ে পদ্মা নদীর প্রবাহে যুক্ত হবে।

তবে নেপালে সৃষ্ট এই নির্দিষ্ট পাহাড়ি ঢলের পানি ঠিক কখন বাংলাদেশে পৌঁছাবে, তা বর্তমান পর্যবেক্ষণ দিয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। নদীপথে অগ্রসর হওয়ার সময় পাহাড়ি বন্যার শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষয় হতে থাকে বা দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশন পাহাড়ি ঢলের পানি ভাটি এলাকায় পৌঁছানোর সময় শক্তি ক্ষয়ের কথা জানিয়েছে।
বর্তমানে বিহারের গঙ্গার কয়েকটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পানি এরই মধ্যে বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। ফলে নেপাল থেকে আসা অতিরিক্ত প্রবাহ গঙ্গায় যুক্ত হওয়ার পর ভাটি এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। পাহাড়ি ঢলের বন্যার পানির গতিপথ হবে নিম্নরূপ: Valmikinagar → Gandak → Hajipur/Sonepur → Ganga → eastern Bihar → Farakka → Bangladesh।
বাংলাদেশের গঙ্গা-পদ্মা নদীর তীরবর্তী এবং বিশেষ করে চরাঞ্চলের মানুষদের আতঙ্কিত না হয়ে আগামী কয়েক দিন নদীর পানির উচ্চতার পরিবর্তনের ওপর সতর্ক নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে।’
এ ইউ/














Discussion about this post