পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরে এক ধাক্কায় বরাদ্দ প্রায় ৬১ শতাংশ কমানো হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই বিভাগের জন্য মোট ২১৬৫ দশামক ৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যেখানে আগে তৃণমূল সরকার তাদের অন্তবর্তী বাজেটে এই বিভাগের জন্য বরাদ্দ করেছিল ৫৭১৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এ খাতে বরাদ্দ মোট ৩৫৪৮ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। এই খাতের আওতায় মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুদান, সংখ্যালঘু যুবক-যুবতীদের স্কলারশিপ, দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি চলে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলায় মোট ৬১৪টি সরকার স্বীকৃত মাদ্রাসা রয়েছে, যেখানে আনুমানিক সাড়ে ৪ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে।
নতুন সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, বাজেটে কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্য করা হয়নি। বরং দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত উত্তরবঙ্গের পিছিয়ে পড়া জনজাতি, চা শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এক মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবার জন্য উন্নয়ন চাই। কিন্তু যেখানে বেশি প্রয়োজন, সেখানে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষাকেও আধুনিকীকরণ করা হবে, শুধু অন্ধকারে রাখা হবে না।’
আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকি বলেছেন, সংখ্যালঘু যুবকদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মাদ্রাসা শিক্ষায় লাখ লাখ ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করে। হঠাৎ করে এতটা বরাদ্দ কমানো তাদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলবে।
তিনি আরও বলেন, এ খাতে তৃণমূল সরকার ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ করলেও তার অর্ধেকের বেশি টাকা তারা খরচ করতে পারত না। যেটুকু টাকা খরচ হতো তার অনেক অংশ অপব্যয় হত। যেসব এলাকায় ৫০ শতাংশের বেশি মুসলিম বসবাস সেসব এলাকায় অন্যান্য খাতে এই টাকা খরচ করা হতো। নতুন সরকারের কাছে আমার আবেদন যেন এই অপব্যবহার রোধ করা যায়।
বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাদের নেতারা বলছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি এই বাজেট ‘প্রতিশোধমূলক’। বাজেটে হতাশ হয়েছি। সংখ্যালঘুদের জন্য বরাদ্দ কমেছে বলে দাবি জানিয়েছেন সাবেক তৃণমূল বিধায়ক গোলাম রাব্বানী।
বাজেট পেশ পর্ব সমাপ্ত হওয়ার পর বিধানসভার প্রেস কর্নারে সংবাদ সম্মেলন করেন বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্য বিধানসভার বর্তমান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্মেলন থেকেই এই নতুন বাজেটকে পরিকাঠামোগতভাবে সম্পূর্ণ দিশাহীন বলে কড়া ভাষায় কটাক্ষ করেছেন তিনি।
পরিকাঠামো খাতে সুস্পষ্ট রূপরেখার অভাব এবং সংখ্যালঘু উন্নয়নের বাজেটে অভাবনীয় হারে বরাদ্দ ছাঁটাইয়ের মতো বিষয়গুলো তুলে ধরে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন ঋতব্রত ।
এম এইচ/














Discussion about this post