রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, মস্কো তার লক্ষ্য অর্জন করবেই এবং পশ্চিমাদের সঙ্গে যুদ্ধের সম্ভাবনা স্পষ্ট ভাষায় নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটে বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ন্যাটোকে আক্রমণ করবে রাশিয়া। তাই যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য পশ্চিমাদের আহ্বান জানান তিনি। রুটের সেই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমাদের সঙ্গে যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে এ মন্তব্য করেন পুতিন। খবর আল জাজিরার।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পুতিন বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার বিষয়ে পশ্চিমাদের আহ্বান হলো ‘হিস্টিরিয়া ও মিথ্যা’। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধে ক্রেমলিনের লক্ষ্য ‘নিঃসন্দেহে’ অর্জিত হবে। তিনি আরও জানান, গত এক বছরে ইউক্রেনের প্রায় ৩০০টি এলাকা দখলে নিয়েছে রাশিয়া।
রুশ প্রেসিডেন্ট আবারও জোর দিয়ে বলেন, মস্কো ইউক্রেন যুদ্ধের কূটনৈতিক মাধ্যমে সমাধানে আগ্রহী। তবে পশ্চিমারা যদি অর্থবহ আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে রাশিয়া ‘সামরিক উপায়ে তার ঐতিহাসিক ভূমি মুক্ত করতে’ প্রস্তুত থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ন্যাটোতে যোগ দেয়ার চিন্তা বাদ দিলেন জেলেনস্কি
এদিকে রাশিয়ার ‘ফ্রিজ’ করা সম্পদ ইউক্রেনকে দেয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) এক শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হবেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা। সেখানে তারা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ফ্রিজ করা রুশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ২৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সম্পদের একটি অংশ ব্যবহার করে ইউক্রেনের অর্থনৈতিক ও সামরিক চাহিদা মেটানোর বিষয়ে আলোচনা করবেন।
তবে এই প্রস্তাবের আইনি ভিত্তি দুর্বল এবং এর ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে–এমন আশঙ্কা থেকে বেলজিয়াম, ইতালিসহ আরও কয়েকটি দেশ এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে।
যদিও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন বুধবার ইইউ আইনপ্রণেতাদের সাফ বলে দিয়েছেন, ‘একটি বিষয় একেবারেই স্পষ্ট। এই ইউরোপীয় কাউন্সিলেই আমাদের আগামী দুই বছরের জন্য ইউক্রেনকে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’














Discussion about this post