জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের জন্য প্রথমবারের মতো মাসিক সম্মানী ভাতা চালুর প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে বিশেষ করসুবিধার ঘোষণাও এসেছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই উদ্যোগের কথা জানান।
বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর অংশ হিসেবে আন্দোলনে অবদান রাখা ব্যক্তি ও পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া প্রত্যেকের পরিবারকে মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা দেওয়া হবে। একই পরিমাণ ভাতা পাবেন গুরুতর আহত ‘এ’ ক্যাটাগরির যোদ্ধারা। এছাড়া ‘বি’ ক্যাটাগরির আহতদের জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা এবং ‘সি’ ক্যাটাগরির আহতদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা ভাতার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এছাড়া গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য করসুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সাধারণ করদাতাদের তুলনায় তাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
এই ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বাজেটটি উপস্থাপন করা হয়। বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছর কার্যকর হবে।
এম এইচ/














Discussion about this post