বাণিজ্যের আড়ালে গত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে ৬ হাজার ৮৩০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে বলে জানিয়েছে গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি (জিএফআই)। বর্তমান বাজারদরে (প্রতি ডলার ১২২ টাকা) এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৮ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৬৮৩ কোটি ডলার পাচার হয়েছে।
২৬ মার্চ প্রকাশিত জিএফআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচারের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে। মূলত আমদানি-রপ্তানিতে মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে এই অর্থ পাচার হয়ে থাকে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিবছর পাচার হওয়া অর্থ দেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ১৬ শতাংশের সমান। এর বড় অংশই ঘটে বাণিজ্য মূল্য কারসাজির মাধ্যমে।
এদিকে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত অর্থনীতি বিষয়ক শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়কালে ২৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। সে সময়ের হিসাবে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা, যা প্রতিবছর গড়ে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার সমান।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, আর্থিক খাতের প্রভাবশালী গোষ্ঠী, আমলা ও মধ্যস্বত্বভোগীরা এই অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল।
জিএফআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, পাচার হওয়া অর্থের প্রায় ৩ হাজার ২৮০ কোটি ডলার উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোয় স্থানান্তরিত হয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের অর্থ পাচার দেশের উন্নয়ন ও সুশাসনের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ দুর্বল হয়, কর রাজস্ব কমে যায় এবং জনসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংকুচিত হয়।
বিশ্ব প্রেক্ষাপটে বড় অর্থনীতির দেশগুলোতেও একই প্রবণতা দেখা যায়। যেমন এক দশকে চীনে ৬ দশমিক ৯৬ ট্রিলিয়ন ডলার, থাইল্যান্ডে ১ দশমিক ১৮ ট্রিলিয়ন এবং ভারতে ১ দশমিক শূন্য ৬ ট্রিলিয়ন ডলার পাচারের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
পাচার রোধে জিএফআই শুল্ক ব্যবস্থাপনা জোরদার, আঞ্চলিক পর্যায়ে তথ্য বিনিময় বৃদ্ধি, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।
এস আই/














Discussion about this post