নির্বাচনী তফসিলকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে আসন্ন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে স্বয়ং বায়রার নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড।
আগামী ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি-বায়রার নির্বাচন। এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় গত ২৯ অক্টোবর, ২০২৫।
তফসিলের শুরুতেই জানানো হয়, কোনো সদস্যের বার্ষিক চাঁদা ও অন্যান্য বকেয়া থাকলে তিনি ভোটার হতে পারবেন না।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ও বায়রার নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান ফিরোজ আল মামুনের স্বাক্ষরিত তফসিলে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত সদস্য পদ নবায়ন ও প্রাথমিক ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করা যাবে। একই সঙ্গে বলা হয়, ২০২৫-২০২৭ মেয়াদের নির্বাচনে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য সদস্য গণের ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত বার্ষিক চাঁদা ও অন্যান্য বকেয়া পরিশোধিত থাকতে হবে।
কিন্তু সেই নির্দেশনা কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে? সেই অনুসন্ধান করতে গিয়ে চোখ কপালে ওঠে। কোনো তোয়াক্কাই করেনি নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড। বায়রায় লাখ লাখ টাকা বকেয়া থাকলেও শত শত সদস্যকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। করা হয়নি কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই। যা বায়রার ইতিহাসে প্রথম।
এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক ভোটার। যারা সকল নিয়মকানুন মেনে ভোটার হয়েছেন। তাদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, কোনো একটি পক্ষকে সন্তুষ্ট করতেই তফসিল অমান্য করা সদস্যের ভোটার করা হয়েছে।
সাধারণ ভোটাররা বলছেন, নিয়ম যদি নাই-ই মানে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড। তাহলে কেন এমন নিয়ম তফসিলে উল্লেখ করা হলো?
এ বিষয়ে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান ফিরোজ আল মামুন প্রসাব খবরকে জানান, শুধু মাত্র বাৎসরিক ফি দিলেই ভোটার হওয়া যাবে।
ভোটারদের অনেকের কল্যাণ তহবিলের লাখ লাখ টাকা বকেয়ার বিষয়টি নজরে আনলে তিনি বায়রার সচিব ও প্রশাসকের সাথে কথা বলতে বলেন।
বায়রার সচিব ও প্রশাসককে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
শুধু ভোটার হবার জন্য কল্যাণ তহবিলের লাখ লাখ টাকা দিয়েছেন অনেক সদস্য। তাহলে একই সংগঠনে কেন এই বৈষম্য। লাখ লাখ টাকা বকেয়া রেখেই যদি ভোটার হওয়া যায় তাহলে তফসিলেই বা কেন অন্যান্য বকেয়া নামক শর্ত দিয়ে বিভ্রান্ত তৈরি করা হলো? এমন প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে।
এম এইচ/














Discussion about this post