বিশ্বকাপের আগে থেকেই আলোচনায় ছিলেন জার্মান গবেষক জোয়াকিম ক্লেমেন্ট। পরিসংখ্যান ও গাণিতিক মডেলের ভিত্তিতে অতীতের তিনটি বিশ্বকাপের বিজয়ী দল সঠিকভাবে অনুমান করায় তার পূর্বাভাসকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন অনেক ফুটবলপ্রেমী। তাই এবারের টুর্নামেন্টে ব্রাজিলকে নিয়ে তার মন্তব্যও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে।
ক্লেমেন্টের দাবি ছিল, ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল এবারের বিশ্বকাপের শেষ ৩২ পর্বেই বিদায় নেবে। তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এশিয়ার শক্তিশালী দল জাপানের কাছেই হারতে হবে সেলেসাওদের। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মতো দলের ক্ষেত্রে এমন ভবিষ্যদ্বাণী স্বাভাবিকভাবেই বিস্ময় তৈরি করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা পায়।
সোমবার (৩০ জুন) জাপানের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচ শুরু হওয়ার পর একসময় মনে হচ্ছিল, ক্লেমেন্টের ভবিষ্যদ্বাণী সত্যিই বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। ম্যাচের প্রথমার্ধেই গোল করে এগিয়ে যায় জাপান। ব্রাজিলের রক্ষণে চাপ তৈরি করে তারা কয়েকবার আরও আক্রমণও চালায়। জাপানের দাপুটে শুরু দেখে অনেক সমর্থকের মনেই তখন ফিরে আসে সেই জার্মান গবেষকের নাম।
তবে বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। কোচ কার্লো আনচেলত্তির কৌশলগত পরিবর্তনে ছন্দ ফিরে পায় ব্রাজিল। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করে তারা। শেষ পর্যন্ত দুটি গোল করে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় সেলেসাওরা। নাটকীয় এই প্রত্যাবর্তনে শুধু শেষ ষোলো নিশ্চিতই করেনি ব্রাজিল, ভুলও প্রমাণিত হয়েছে ক্লেমেন্টের বহুল আলোচিত পূর্বাভাস।
কিন্তু দিনের নাটকীয়তা এখানেই শেষ হয়নি। ব্রাজিল যখন জয় উদ্যাপনে ব্যস্ত, তখন মাঠে নামে ক্লেমেন্টের নিজের দেশ জার্মানি। তুলনামূলক দুর্বল হিসেবে বিবেচিত প্যারাগুয়ের বিপক্ষে খেলতে নেমে বড় ধরনের অঘটনের শিকার হয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। প্রত্যাশার বিপরীতে হেরে টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় নিতে হয় জার্মানিকে।
ফলে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে দিনটি ভিন্ন এক প্রতীকী অর্থও তৈরি করেছে। যে গবেষক নিজের গাণিতিক বিশ্লেষণে ব্রাজিলের বিদায়ের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত তাকেই দেখতে হলো নিজের দেশের অপ্রত্যাশিত বিদায়। আর প্যারাগুয়ের সেই জয় এখন পর্যন্ত এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটনগুলোর একটি হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে।
ফুটবলে পরিসংখ্যান, তথ্য বিশ্লেষণ ও গাণিতিক মডেলের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। তবে মাঠের বাস্তবতা যে অনেক সময় সব হিসাব-নিকাশকে ভুল প্রমাণ করে দিতে পারে, ব্রাজিল ও জার্মানির এই দুই ম্যাচ যেন আবারও সেই চিরন্তন সত্যটিই মনে করিয়ে দিল।
এ ইউ/














Discussion about this post