প্রেমের টানে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর তীব্র আইনি জটিলতা এবং পারিবারিক মনস্তাত্ত্বিক টানাপড়েনের মুখে পড়ে অবশেষে পুনরায় সনাতন (হিন্দু) ধর্মে ফিরে গেছেন উত্তরপ্রদেশের শামলি জেলার বাসিন্দা আয়ুষ মালিক। নিজের ধর্মান্তরকরণকে কেন্দ্র করে স্ত্রী ও তার পিতার (শ্বশুর) গ্রেফতার এবং উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিশেষ তদন্তের মধ্যেই এই চাঞ্চল্যকর ‘ঘর ওয়াপসি’ বা স্বধর্মে প্রত্যাবর্তনের ঘটনাটি ঘটেছে।
ভারতীয় এক ব্যবসায়ী টাইকুনের ছেলে আয়ুষ মালিকের দাবি, তার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্তে পিতা-মাতা যে তীব্র মানসিক ও সামাজিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, তা সহ্য করতে না পেরেই তিনি পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ফার্মেসি স্নাতক সম্পন্ন করা আয়ুষ মালিক তার নিজ বাসভবনে পিতা-মাতার উপস্থিতিতে হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও পূজা করছেন। ভিডিওতে তাকে পরিবারের কাছে অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইতে এবং বাকি জীবন পিতা-মাতার সাথেই কাটানোর অঙ্গীকার করতে দেখা যায়।
স্থানীয় যোগ সাধনা আশ্রমের প্রধান যশবীর মহারাজ সংবাদমাধ্যমকে জানান, ব্যাপক সামাজিক প্রচার ও জনমতের চাপেই আয়ুষের এই স্বধর্মে প্রত্যাবর্তন ঘটেছে। তিনি দাবি করেন, আয়ুষ তার ঘর থেকে ইসলামী বিশ্বাসের সমস্ত সামগ্রী সরিয়ে ফেলেছেন এবং নিয়মিত হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতি পালন শুরু করেছেন। এর মাধ্যমে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা একটি পরিবারের তীব্র মানসিক কষ্টের অবসান হলো।
এই ঘটনার সূত্রপাত বেশ কয়েক বছর আগে। পেশায় ফিজিওথেরাপিস্ট চাঁদনী কুরেশির কাছে পায়ের চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতালে গিয়ে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান আয়ুষ মালিক। আয়ুষের পিতা দেবরাজ মালিকের দায়ের করা এফআইআর অনুযায়ী, ২০২৩ সালে চাঁদনী ও তার পরিবার আয়ুষকে ফুসলিয়ে দিল্লিতে নিয়ে যান। সেখানে আয়ুষের ধর্মান্তর সম্পন্ন হয় এবং তিনি ‘মোহাম্মদ আলী’ নাম ধারণ করে চাঁদনীকে নিকাহ করেন। এরপর থেকে তিনি দাড়ি রাখা এবং নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়সহ ইসলামী অনুশাসন মেনে চলতে শুরু করেন।
তবে আয়ুষের পিতা দেবরাজ মালিকের অভিযোগ, এই ধর্মান্তরকরণ কোনো সাধারণ প্রেমের পরিণতি ছিল না; বরং তাদের পরিবারের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার জন্য এটি ছিল এক সুপরিকল্পিত গভীর ষড়যন্ত্র। যদিও ধর্মান্তর বিতর্কের মুখে আয়ুষ মালিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি বিনা প্রোরোচনায় স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছেন।
বাবার এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ বিতর্কিত ‘বেআইনি ধর্মান্তর বিরোধী আইন’ এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় (প্রতারণা, জালিয়াতি ও চাঁদাবাজি) একটি মামলা রুজু করে। গত ৭ জুন পুলিশ স্ত্রী চাঁদনী কুরেশি ও তার পিতা ইসলাম কুরেশিসহ চারজনকে গ্রেফতার করে। এই মামলায় মোট ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত দল (সিট) গঠন করা হয়েছে।
আইনি লড়াই ও পুলিশি তদন্ত চলাকালীন অবস্থাতেই আয়ুষের এই আকস্মিক সনাতন ধর্মে ফিরে যাওয়ার ঘটনাটি পুরো এলাকায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে আয়ুষের এই ‘ঘর ওয়াপসি’র পর বর্তমানে কারাবন্দী চাঁদনী কুরেশি এবং তার পরিবারের আইনি ভাগ্য কোন দিকে মোড় নেবে, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
এস আই/














Discussion about this post