টানা ৩৮ দিনের সংঘাত শেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনায় বসেছিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই ভেস্তে যায়। এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের হুমকিকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়েছে একটি ইরানি সুপারট্যাঙ্কার।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এই ‘ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার’ জাহাজটি প্রায় দুই মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনে সক্ষম। ট্রাম্পের অবরোধ শুরুর পর এটিই প্রথম বড় কোনো ইরানি জাহাজ যা মার্কিন নৌবাহিনীর চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে গন্তব্যের দিকে এগিয়েছে। তবে জাহাজটি পণ্যবাহী ছিল নাকি খালি অবস্থায় ফিরছিল, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
এদিকে, ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরপরই সোমবার (১৩ এপ্রিল) ওয়াশিংটন সময় রাত ৮টা থেকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের উপসাগরীয় বন্দরগুলো কার্যত অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেছিলেন, “ইরানের কোনো জাহাজ যদি অবরুদ্ধ অঞ্চলের কাছে আসে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেটি ধ্বংস করা হবে।”
ট্রাম্প আরও নির্দেশ দিয়েছিলেন, ইরানকে কোনোভাবে অর্থ বা টোল পরিশোধ করা জাহাজগুলোকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় চিহ্নিত করে আটক করতে হবে। তার এই ঘোষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের তেল রপ্তানি এবং অর্থনীতির মূল স্রোত সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া।
মার্কিন নৌবাহিনীর কড়া পাহারার মধ্যেই শুধু ইরান নয়, মঙ্গলবার চীনের একটি তেলের ট্যাঙ্কারও সফলভাবে প্রণালিটি পার হয়েছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘মেরিন ট্রাফিক’ ও ‘কেপলার’ জানিয়েছে, ‘রিচ স্টারি’ নামের এই ট্যাঙ্কারটি অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর প্রথম জাহাজ হিসেবে উপসাগর থেকে বের হয়ে আসে।
উল্লেখ্য, এই চীনা প্রতিষ্ঠানটির ওপর আগে থেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। এছাড়া ‘মুরলিকিশান’ নামের আরেকটি নিষিদ্ধ জাহাজও বর্তমানে হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
এম এইচ/














Discussion about this post