বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের জয় এখন ফুটবলের আলোচনায় পরিণত হয়েছে। মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে রেফারির ‘বিতর্কিত’ সিদ্ধান্ত এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-এর ভূমিকা।
ম্যাচটি যখন ২-২ সমতায়, তখন ৯২তম মিনিটে ঘটে সেই আলোচিত ঘটনা। মিশরের অধিনায়ক মোহামেদ সালাহ বল নিয়ে আর্জেন্টিনার বক্সের ডান প্রান্তে ঢুকে শট নেওয়ার সুযোগ খুঁজছিলেন। এ সময় তার পা থেকে বল কেড়ে নিতে পেছন থেকে আলতো ট্যাকল করেন আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজ। কিন্তু ওই ট্যাকলের সালাহর পায়ের গোড়ালিতে আঘাত করে। আলভারেজ পায়ের সঙ্গে বলের সংযোগ হয়নি। সালাহ পড়ে যান মাটিতে।
সালাহরা পেনাল্টির দাবি জানালেও রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে তাতে সাড়া দেননি। উল্টো বল নিয়ে মুহূর্তে কাউন্টার অ্যাটাক গড়ে তোলে আর্জেন্টিনা। লাউতারো মার্টিনেজ মিশরের অর্ধে বল পেয়ে বা প্রান্ত থেকে লম্বা ক্রস করে পাস দেন বক্সে। হেড করে জালে বল পাঠান এনজো ফার্নান্দেজ। এই গোলেই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় এবং আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটে।
মিশরের ক্ষোভ আরও বাড়ে দ্বিতীয়ার্ধের একটি সিদ্ধান্ত ঘিরে। দ্বিতীয়ার্ধের ৬০ মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে বল টেনে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে অসাধারণ এক গোল করেন মিশরের স্ট্রাইকার মোস্তাফা জিকো। ভিএআর পর্যালোচনার পর এনজো ফার্নান্দেজের ওপর আগের একটি ফাউলের অভিযোগে সেটি বাতিল করা হয়। কিন্তু ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সালাহর ক্ষেত্রে একই প্রযুক্তির শরণাপন্ন না হওয়ায় রেফারি ও ভিএআর কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মিশরীয়দের অভিযোগ, নিজেদের গোল বাতিলের ক্ষেত্রে ভিএআর ব্যবহার করা হলেও ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সালাহর সম্ভাব্য পেনাল্টির ঘটনায় একইভাবে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার হয়নি।
তাদের দাবি, ওই ঘটনা ভিএআরে পর্যালোচনা করা হলে পেনাল্টি পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা ছিল; কিন্তু হলো উল্টোটা। আর্জেন্টিনার নামে লেখা হলো দুর্দান্ত কাউন্টার, গোল এবং কামব্যাকে রূপকথার জয়।
ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান মিশরের খেলোয়াড় ও সমর্থকরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) অনেকেই ম্যাচটিকে ‘পাতানো’ বলে দাবি করেন। কেউ লেখেন, ‘মিশরের কাছ থেকে গোল কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’ আবার কেউ মন্তব্য করেন, ‘মেসির জন্যই বিশ্বকাপ সাজানো হয়েছে।’
বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ফুটবল সাংবাদিকও ভিএআরের এই ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। স্কাই স্পোর্টসের সাংবাদিক রব হ্যারিস বলেন, ভিএআর আইনের মধ্যে থাকলেও এত দীর্ঘ সময় আগের একটি ঘটনায় ফিরে গিয়ে গোল বাতিল করা প্রযুক্তির উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিবিসির সাংবাদিক ডেল জনসনের ভাষ্য, পুরো টুর্নামেন্টে যে ধরনের রেফারিং দেখা গেছে, তার সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের মিল নেই। তিনি মনে করেন, খুবই সামান্য সংস্পর্শের কারণে এত সুন্দর একটি গোল বাতিল করা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে সাংবাদিক হেনরি উইন্টার রসিকতা করে বলেন, ‘আরও একটু পেছনে গেলে মনে হতো তুতানখামেনও এই আক্রমণের অংশ ছিলেন!’ তবে তিনি যোগ করেন, নিয়মের ব্যাখ্যায় সিদ্ধান্তটি সঠিক হতে পারে; কিন্তু এমন দুর্দান্ত একটি গোল বাতিল হওয়া ফুটবলের জন্য দুঃখজনক।
ম্যাচ-পরবর্তী বিতর্কের মধ্যেও কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। তবে ভিএআরের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপজুড়ে রেফারিং নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এ ইউ/














Discussion about this post