সোমবার রাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় সৌদি আরবের তেলবাহী দুটি বড় জাহাজে (সুপারট্যাংকার) হামলা হয়েছে। সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা ম্যারিস্কস ও কেপলার জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে জাহাজ দুটিতে অজ্ঞাত বস্তু বা প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। ম্যারিস্কস বলছে, প্রায় একই সময়ে ঘটা এই জোড়া হামলা ওই নৌপথে নিরাপত্তার বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।
গত সপ্তাহে সৌদির জুয়াইমাহ টার্মিনাল থেকে প্রতিটি ট্যাংকারে ২০ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত তেল বোঝাই করা হয়। উল্লেখ্য, গত আগস্টেই এই প্রণালি দিয়ে পুনরায় তেল সরবরাহ শুরু করেছিল সৌদি আরামকো।
হামলার সময়কাল সম্পর্কে ম্যারিস্কস জানায়, সোমবার গ্রিনিচ মান সময় সন্ধ্যা ৭টা ৫২ মিনিটে ওমানের খাসাব উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় সৌদি পতাকাবাহী ‘সিদর’ নামের বিশাল তেলের জাহাজটিতে প্রথম হামলা হয়। এর কয়েক মিনিট পরই কাছাকাছি এলাকায় লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী আরেক ট্যাংকার ‘সেনেগাল প্রসপারিটি’-তে তিনটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। তবে জাহাজের সব নাবিক নিরাপদে আছেন। যুক্তরাজ্যের নৌ-বাণিজ্য সংস্থাও হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে তিনটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি রপ্তানি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ছয় মাসের বেশি সময় আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি অবরুদ্ধ রয়েছে। এটি চালুর জন্য কাতার ও ওমান মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও এখনো কোনো সমাধান আসেনি। এর মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে হামলার হুমকি দেওয়ায় মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে।
এদিকে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ দুটির পরিচালনা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশ দিয়ে যাওয়ার সময় একটি সৌদি তেল ট্যাংকারকে থামানো হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
এস আই/













Discussion about this post