বগুড়ার ধুনট উপজেলায় মসজিদের জায়গা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় ২০২১ সালে নির্মিত একটি টিনের মসজিদ ঘর ভাঙচুর করে ভেতরের আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র লন্ডভন্ড করা হয়।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজ আদায় শেষে উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের রামনগর পশ্চিমপাড়া মসজিদ এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—উপজেলার রামনগর গ্রামের সোহরাব আলী (৫৫), ফরিদুল ইসলাম (৩৫), নুর আলম (৩০), ফরিদুল ইসলাম (৩৪), ডাবলু হোসেন (৪০), রেজাউল প্রামানিক (৪২), আয়েশা বেগম (৫৫), সুমি খাতুন (৩০) এবং গোলছারা বেগম (৫৫)। আহতদের স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০০১ সালে স্থানীয়রা মিলে রামনগর পশ্চিমপাড়া এলাকায় একটি টিনের মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু যাতায়াতের সুবিধার্থে নির্ধারিত ক্রয়কৃত স্থানে মসজিদটি না করে ২০০ মিটার দূরে নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে জায়গার মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বে এলাকাবাসী দুপক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েন এবং অপর পক্ষ ২০২১ সালে নির্ধারিত স্থানে আরেকটি নতুন টিনের মসজিদ নির্মাণ করে। এ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
ঘটনার দিন জুমার নামাজ শেষে দুপক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে একপর্যায়ে তা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় ২০২১ সালে নির্মিত মসজিদটিতে হামলা চালিয়ে এর বেড়া ভেঙে ফেলা হয় এবং মাইক ও ফ্যানসহ যাবতীয় জিনিসপত্র তছনছ করা হয়।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে। সোহরাব আলী নামের এক ব্যক্তি দাবি করেন, ২০২১ সালে নির্মিত মসজিদে নামাজ আদায়কালে প্রতিপক্ষের লোকজন অতর্কিত হামলা চালিয়ে মসজিদটি ভাঙচুর করে। অন্যদিকে প্রতিপক্ষের আলহাজ আবুল কালাম দাবি করেন, বিরোধ মীমাংসার প্রস্তাব নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করার পর তাকে আটকে রাখা হয়। পরে খবর পেয়ে স্বজনরা মসজিদের বেড়া ভেঙে তাকে জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ইউ/














Discussion about this post