ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা চালাতে পারে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এই সম্ভাব্য অভিযানের জন্য দুই দেশই বর্তমানে তাদের সর্বোচ্চ সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। গত শুক্রবার (১৫ মে) মধ্যপ্রাচ্যের দুজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্র ধরে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, এবার যদি নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়, তবে ইরানের ওপর আগের চেয়েও অনেক বেশি তীব্র ও বিধ্বংসী বোমাবর্ষণ করা হবে। এই হামলার মূল লক্ষ্য হবে ইরানের প্রধান প্রধান সামরিক ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ধ্বংস করা। এর পাশাপাশি পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের তেল রপ্তানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ দখল করার একটি বড় পরিকল্পনাও রয়েছে যৌথ বাহিনীর।
একই সঙ্গে ইরানের মূল ভূখণ্ডে বিশেষ কমান্ডো দল পাঠিয়ে তাদের সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম জব্দ করে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ইউরেনিয়াম উদ্ধারের অভিযানটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে এবং এতে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, এই কমান্ডো মিশন সফল করতে সেখানে সহায়তাকারী দল হিসেবে কয়েক হাজার সেনা উপস্থিত রাখতে হবে, যার ফলে ইরানি বাহিনীর সঙ্গে মার্কিন ও ইসরায়েলি সেনাদের সরাসরি ও রক্তক্ষয়ী স্থলযুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে।
এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধকে অবধারিত ধরে নিয়েই ইসরায়েল তাদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে বড় ধরনের এই সামরিক পদক্ষেপের আগে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন। ট্রাম্প ইরানিদের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত কীভাবে আলোচনা এগিয়ে নেন, সেটির ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইসরায়েলি কর্মকর্তা আরও বলেন, আমেরিকানরা এখন স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছে যে আলোচনার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে কোনো সমাধান আসবে না। তাই তারা কয়েক দিন থেকে শুরু করে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে- এমন একটি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আছেন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে তা আরও স্পষ্ট হবে।
এর আগে, গত শুক্রবার চীন সফর শেষে দেশে ফেরার পথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরান যদি সত্যি সত্যি আগামী ২০ বছরের জন্য তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে ওয়াশিংটন বিষয়টি ভেবে দেখতে পারে।
উল্লেখ্য, এর আগে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয়েছিল যে ইরানকে চিরজীবনের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে। তবে সেই আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের মেঘে ঢেকে যাচ্ছে।
এম এইচ/














Discussion about this post