বলিউড অভিনেতা আমির খানের সাম্প্রতিক বিয়ে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীদের বিয়ে করায় তার বিরুদ্ধে চটেছে ভারতের সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীগুলো। পিছু নিয়েছে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরাও। আমিরকে ‘লাভ জেহাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর’ বলে কটাক্ষ করা হচ্ছে বিজেপি, শিব সেনার নেতাদের শিবির থেকে। এদিকে ভারতের উত্তরপ্রদেশের এক মুসলিম ধর্মীয় নেতা দাবি করেছেন, হিন্দু নারী গৌরী স্প্র্যাটকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ছাড়াই বিয়ে করায় শরিয়াহ অনুযায়ী এই বিয়ে বৈধ নয়। এ বিষয়ে তিনি আমির খানের বিরুদ্ধে একটি ফতোয়া জারি করেছেন।
হিন্দুস্তান টাইমস থেকে জানা যায় ধর্মীয় নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, ইসলামি শরিয়াহর ব্যাখ্যায় কোনো মুসলিম পুরুষ যদি অমুসলিম নারীকে ইসলাম গ্রহণ ছাড়াই বিয়ে করেন, তাহলে সেই বিয়ে শরিয়াহ অনুযায়ী স্বীকৃত নয়। তিনি আরও দাবি করেন, আমির খান একজন জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় তার এমন সিদ্ধান্ত সমাজে ভুল বার্তা দিতে পারে।
তবে উল্লেখ্য, ফতোয়া কোনো রাষ্ট্রীয় বা আদালতের আইনগত আদেশ নয়, এটি একটি ধর্মীয় মতামত বা ব্যাখ্যা। ভারতের আইনে এর নিজস্ব কোনো বাধ্যতামূলক আইনি ক্ষমতা নেই। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ জুলাই মুম্বাইয়ে নিজ বাসভবনে ঘরোয়া আয়োজনে গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করেন আমির খান। জানা গেছে, তাদের বিয়ে ভারতের বিশেষ বিবাহ আইন অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। গৌরী নিজের ধর্ম পরিবর্তন করেননি।
নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে আমির বলেন, “আমাদের পরিবার আন্তঃধর্মীয় সম্পর্কে বিশ্বাসী। আমার দুই বোন হিন্দু পাত্রকে বিয়ে করেছে। আমার মেয়ে ইরার স্বামী অর্থাৎ জামাইও হিন্দু। তুতো ভাইয়ের স্ত্রী খ্রিস্টান।”
বিয়ের পর স্ত্রীদের ধর্মান্তরিত করেননি উল্লেখ করে এ তারকা বলেন, “সবচেয়ে বড় বিষয় রীনা, কিরণ বা গৌরী কেউই বিয়ের পর ধর্মান্তরিত হয়নি। কারণ প্রত্যেকটি বিয়ে স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টের নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে। তাই ধর্ম পরিবর্তনের প্রশ্নই নেই। আর গৌরী তো হিন্দু নন, খ্রিস্টান। সময় যত এগোচ্ছে জীবন যেন ততই বেশি হাস্যকর হয়ে উঠছে।”
বিয়ের অনুষ্ঠানে আমির খানের সন্তান ইরা, জুনায়েদ ও আজাদসহ দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ইউ/














Discussion about this post