চলমান ইসরায়েল-মার্কিন অভিযানের মুখে ইরানে জোরপূর্বক সরকার পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন। বেইজিং জানিয়েছে, এ ধরনের পদক্ষেপের পেছনে কোনো জনসমর্থন নেই এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।
রোববার (৮ মার্চ) বেইজিংয়ে এক বার্ষিক সম্মেলনে সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, কোনো ‘কালার রেভল্যুশন’ বা সরকার পরিবর্তনের নীল নকশা কখনোই সাধারণ মানুষের সমর্থন পাবে না। ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি অবিলম্বে এই সামরিক অভিযান বন্ধের দাবি জানান।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ওয়াং ই বলেন, এই যুদ্ধটি হওয়া উচিত ছিল না। এতে কারও কোনো মঙ্গল হবে না। শক্তি দিয়ে কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; বরং সশস্ত্র সংঘাত কেবল ঘৃণা বাড়াবে এবং নতুন সংকটের জন্ম দেবে।
তিনি আরও যোগ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের মানুষই এই অঞ্চলের প্রকৃত নিয়ন্ত্রক।
এখানকার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। গায়ের জোর থাকলেই যুক্তি সবসময় সঠিক হয় না। বিশ্বকে আমরা ‘জঙ্গলের রাজত্বে’ ফিরে যেতে দিতে পারি না।
এদিকে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিল তাদের এক গোপন নথিতে দাবি করেছে, বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েও ইরানের বর্তমান সামরিক ও ধর্মীয় শাসনকাঠামো উপড়ে ফেলা অসম্ভব।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তন করে তার পছন্দের কাউকে বসানোর যে দাবি করে আসছেন, গোয়েন্দা সংস্থাটির এই রিপোর্ট সেই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এমন অভিযানের ফলাফল হবে অনিশ্চিত।
সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইকে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বেজিং। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমা চাপের মুখে থাকলেও রাশিয়ার সঙ্গে চীনের সম্পর্ক ‘অটল ও অবিচল’ থাকবে বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন ওয়াং ই।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চীন মধ্যপ্রাচ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং বিশ্ব শান্তি রক্ষায় আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে একযোগে কাজ করতে প্রস্তুত।
সব পক্ষকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সূত্র: আল জাজিরা
এস আই/














Discussion about this post