নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে অধিক কান্নাকাটি ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় ১৪ দিন বয়সী নিজের নবজাতক ছেলেকে পানি রাখার প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নবজাতকের মা ফাতেমা বেগমকে (১৯) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদারহাট সংলগ্ন বাজার বাড়ির সৌরভের ঘরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নবজাতক ওই বাড়ির সৌরভ হোসেনের ছেলে। ফাতেমা বেগম উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের শরীফ উল্যার মেয়ে।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বরে সৌরভের সঙ্গে ফাতেমার বিয়ে হয়। কিছুদিন পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিলো। সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে নবজাতককে ঘরে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ফাতেমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রথমে তিনি দাবি করেন, পেছন থেকে তাকে মাথায় আঘাত করে কে বা কারা শিশুটিকে নিয়ে গেছে। পরে বলেন, জিনে নিয়ে গেছে। এতে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে খোঁজাখুজির একপর্যায়ে রাতেই ঘরে থাকা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের একটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ফাতেমা সন্তানকে ড্রামের পানিতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেন। নবজাতক জ্বালাতন করতো, ঘুম আসতোনা, অতিরিক্ত কান্নাকাটি করতো, মাকে ঘুমাতে দিতোনা বলে প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে ফেলে তাকে হত্যা করেন।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি মো. শামসুজ্জামান বলেন, নবজাতককে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে তার মাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এস আই/














Discussion about this post