বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য আগামী ৬ মে থেকে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হতে পারে বলে জোরালো আলোচনা চলছে। এই সম্ভাবনার খবরে নতুন করে আশার আলো দেখছে কলকাতার পার্ক স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকার ব্যবসায়ীরা।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক দূরত্বের পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর তৈরি হওয়া টানাপোড়েন কাটিয়ে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ প্রেক্ষাপটে চলতি মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ভারত সফর করেন। ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করার বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনাও করেন। ৭ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে বৈঠক করেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে ভারতীয় অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশকে দূরে রাখা বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছেন ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার জরুরি হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সাউথ ব্লক থেকে দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত আসছে।
এমন সম্ভাবনায় সবচেয়ে বেশি আশাবাদী পার্ক স্ট্রিট এলাকার ব্যবসায়ীরা। কাপড় ব্যবসায়ী মো. আদিল খান মন্তব্য করেন, বাংলাদেশি পর্যটকরা এলে প্রতিদিন দুই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতো। এখন দিনে ৫০ হাজার টাকার বিক্রিও হচ্ছে না। একই এলাকার রিকশাচালক বিনোদ সাউ জানান, আগে বাংলাদেশি পর্যটকদের ভিড়ে প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা আয় করতেন। এখন আয় হয় না ৫০০ টাকাও। মির্জা গালিব স্ট্রিটের কস্তুরি, ভজহরি মান্না ও রাঁধুনির মতো রেস্তোরাঁগুলোতেও আগের মতো ভিড় নেই।
গেদে সীমান্তের ব্যবসায়ীরাও একইভাবে আশাবাদী। ব্যবসায়ী আকাশ বিশ্বাস উল্লেখ করেন, ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হওয়ার খবর পাওয়ার পর তারা নতুন করে পণ্য মজুত শুরু করেছেন। তার ভাষ্য, আগে বাংলাদেশি পর্যটকরা মোবাইল সিম, হ্যান্ডসেট ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য কিনতেন। এখন পর্যটক না থাকায় ব্যবসা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে গেদে ও মাঝদিয়া অঞ্চলের ব্যবসা আবার ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এস আই/














Discussion about this post