মাগুরার শ্রীপুর সরকারি কলেজের সামনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সিরাত প্রতিযোগিতার প্রচারণামূলক পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের ধাওয়া ও হামলার শিকার হয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ছাত্রদলের ধাওয়া খেয়ে শিবিরের নেতা-কর্মীরা নিরাপত্তার জন্য শ্রীপুর থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে শ্রীপুর সরকারি কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, সিরাত প্রতিযোগিতার প্রচারণার জন্য কলেজের সামনে পোস্টার লাগানোর সময় ছাত্রদলের শ্রীপুর সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান অন্তর তাদের বাধা দেন। এ সময় গালিগালাজ করে পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা এবং একজনের মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়ার অভিযোগও করেন তারা।
শ্রীপুর উপজেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি রিফাত বলেন, ‘সিরাত প্রতিযোগিতার প্রচারণার জন্য কলেজের সামনে পোস্টার লাগানোর সময় ছাত্রদলের শ্রীপুর সরকারি কলেজ শাখার সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান অন্তর আমাদের বাধা দেন। তিনি গালিগালাজ করে পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেন এবং মোবাইল ফোন নিয়ে নেন। এ পরিস্থিতিতে আমাদের কর্মীরা সেখান থেকে চলে আসেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়ার সঙ্গে কথা বললে তিনি থানায় এসে দেখা করতে বলেন। আমরা কয়েকজন থানায় যেয়ে তাকে না পেয়ে আবারও অবশিষ্ট পোস্টার লাগিয়ে ফিরে আসার সময় ছাত্রদলের কর্মীরা আমাদের উদ্দেশ্যে করে গালিগালাজ করতে থাকে। আমরা কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখালেও তারা রামদা, লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করে অতর্কিত হামলা চালায়।’
শিবিরের উপজেলা সভাপতি রিফাত আরও দাবি করেন, হামলার সময় তারা ধাওয়া খেয়ে আত্মরক্ষার্থে শ্রীপুর থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন। তিনি বলেন, ‘আমরা থানায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছি। এখনো থানায় আছি। ছাত্রদলের ছেলেরা থানার আশপাশে ঘোরাঘুরি করছে। আমরা কখন বের হব, তা নিয়েও আতঙ্কের মধ্যে আছি।’
এ বিষয়ে ছাত্রদলের নেতা মেহেদী হাসান অন্তর বলেন, ‘সকাল বেলায় আমি কলেজের মধ্যে গিয়ে দেখি শিবিরের ছেলেরা কলেজের প্রধান ফটোকে পোস্টার লাগাচ্ছে আমি তাদেরকে প্রধান ফটক এ পোস্টার না লাগিয়ে অন্য জায়গায় লাগানোর অনুরোধ করি। কোনো গালাগালি করি নাই এবং পোস্টারও ছিড়িনাই। পরবর্তীতে ধাওয়া দেয়ার ঘটনায় আমি ছিলাম না।’
এ বিষয়ে মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনে বলেন, ‘পোস্টার টানানোকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাঙ্গে দেখা হচ্ছে।’
এ ইউ/














Discussion about this post