ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রী বেজালেল স্মতরিচের নতুন মন্তব্য ইসরায়েল–হামাস যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। মন্ত্রী বলেছেন, গাজার জিম্মিদের মুক্তির পর হামাসকে ধ্বংস করা হবে এবং গাজাকে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্র করার চেষ্টা চালানো হবে, যাতে ভবিষ্যতে ইসরায়েলের জন্য কোনো হুমকি না থাকে।
সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা পোস্টে স্মতরিচ বলেন, “জিম্মিরা ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েল রাষ্ট্র সর্বশক্তি দিয়ে হামাসকে ধ্বংস করবে।” তিনি আরও জানান, যুদ্ধবিরতি চুক্তির পক্ষে তিনি ভোট দেবেন না, যদিও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জোট সরকার ভাঙার হুমকি দেননি। তিনি সতর্ক করেছেন, কৃত্রিম শান্তি বা কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতায় আসক্ত হয়ে ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ মূল্য চুকাতে হবে না।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম ধাপের শান্তি পরিকল্পনার আওতায় ইসরায়েল ও হামাসকে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর প্রতি সমর্থন দেন। ট্রাম্প বলেন, “শিগগিরই সব জিম্মি মুক্তি পাবে এবং ইসরায়েল সেনাদের নির্দিষ্ট সীমারেখায় সরিয়ে নেবে। এটি শক্তিশালী ও স্থায়ী শান্তির প্রথম পদক্ষেপ।”
হামাসও এই চুক্তি নিশ্চিত করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহারের পাশাপাশি বন্দিবিনিময় ও গাজায় ত্রাণ সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সূত্র জানায়, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে থাকা ২৫০ ফিলিস্তিনি বন্দী এবং ১ হাজার ৭০০ গাজাবাসীকে প্রথম ধাপে মুক্তি দেওয়া হবে। হামাস এই তালিকা এখনও পাননি, তবে শিগগিরই চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ত্রাণ ও মানবিক সহায়তার জন্য চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েল প্রতিদিন গাজায় ৪০০টি ত্রাণ ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দেবে, যা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। হামাসও এই সপ্তাহান্তে জীবিত থাকা ২০ জন জিম্মিকে মুক্তি দেবে, আর নিহতদের দেহাবশেষ পরবর্তী ধাপে ফেরত দেওয়া হবে। ইসরায়েলি সেনারা প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা থেকে সরে আসবে এবং বিনিময়ে কয়েকশ ফিলিস্তিনি বন্দী মুক্তি পাবে।
এস এইচ/














Discussion about this post