কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ‘ম্যাডাম-স্যার’ সম্বোধন না করলে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
চিকিৎসকদের ‘ম্যাডাম-স্যার’ সম্বোধনের বিষয়ে শুধু মৌখিক সতর্কতাই নয়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনের দরজাতেও টানানো হয়েছে লিখিত নির্দেশনা। সেখানে বলা হয়েছে, কোন মহিলা ডাক্তারকে ম্যাডাম-স্যার ছাড়া অন্য কিছু ডাকবেন না।
সম্প্রতি চিকিৎসা নিতে আসা জুলেখা বেগম বলেন, আমরা গ্রামের মানুষ। মহিলাদের আপা আর পুরুষদের ভাই বলেই অভ্যস্ত। এখানে ডাক্তারদের ভাই বা আপা বললে তারা রেগে যান। এতে চিকিৎসা নিতে ভোগান্তি পোহাতে হয়।
স্থানীয় কয়েকজন রোগী ও স্বজন জানান, আঞ্চলিক ভাষা ও প্রচলিত সামাজিক রীতি অনুযায়ী তারা চিকিৎসকদের ভাই-আপা বলে সম্বোধন করেন। এতে চিকিৎসকদের অসম্মান করার কোনো উদ্দেশ্য থাকে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক নিম্ন শ্রেণির কর্মকর্তা বলেন, আমিও একবার একজন নারী চিকিৎসককে আপা বলে সম্বোধন করেছিলাম। এতে তিনি রাগান্বিত হন এবং পরবর্তীতে ম্যাডাম অথবা স্যার বলে সম্বোধন করতে বলেন।
এদিকে, জরুরি বিভাগের সামনে ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ ছাড়া অন্য কোনো সম্বোধন না করার নির্দেশনা টানানোয় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রোগী ও স্বজনদের মতে, চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মান ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, রোগীদের চিকিৎসকদের ‘ম্যাডাম-স্যার’ বলতেই হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, রোগীরা চিকিৎসকদের ম্যাডাম-স্যার বলতেই হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। জরুরি বিভাগের দরজায় টানানো নির্দেশনার বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই সেটি অপসারণ করা হবে।
সূত্র: আরটিভি
এস আই/














Discussion about this post