সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা থেকে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ১০০টি ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে। গত শনিবার থেকে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাঁচ দিনে ফ্লাইটগুলো সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামের বিমানবন্দরে যেতে পারেনি। এতে ১৫ হাজার ৩৯৩ জন যাত্রী দুশ্চিন্তায় পড়েছেন, যাদের অনেকেরই ছুটি শেষ হয়ে গিয়েছিল। কারও কারও ভিসা ও আকামার মেয়াদও শেষের পথে।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স অবশ্য সৌদি আরবের মদিনা ও জেদ্দা বিমানবন্দরে ফ্লাইট অব্যাহত রেখেছে। এসব নিয়মিত ফ্লাইটে আসন ফাঁকা থাকলে রিয়াদ ও দাম্মামগামী কিছু কিছু যাত্রী বহন করা হচ্ছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় একেবারেই কম।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এক বার্তায় জানায়, গতকাল বিকেল পর্যন্ত ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে মোট ১০০ ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে ৪১টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৫৯টি। এসব ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত থাকায় ১৫ হাজার ৩৯৩ জন যাত্রী তাদের নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে যেতে পারেননি।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল বা স্থগিত হওয়া সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের ৭টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ৭টি ফ্লাইট রয়েছে। এ ছাড়াও ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ২২টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ইজিপ্ট এয়ারের একটি, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজ ৭টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৬টি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার দুটি ফ্লাইট রয়েছে।
এদিকে ঢাকা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ওই রুটে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিল করেছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের দায়িত্বে থাকা মহাব্যবস্থাপক শাহনুর আহমেদ বলেন, স্থগিত করা ফ্লাইটগুলোর যাত্রীদের তারা সার্বক্ষণিক প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে আসছেন। বিমানের জেদ্দা ও মদিনা রুটের ফ্লাইট নিয়মিত চলাচল করছে। দাম্মাম ও রিয়াদ রুটে যেসব যাত্রীর ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে, তাদের অনেকেই জেদ্দা ও মদিনা রুটে সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
তিনি বলেন, যাদের ভিসা বা আকামার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে, তাদের অন্য রুটের ফ্লাইটে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট রুটে আসন ফাঁকা থাকলে তা সম্ভব হচ্ছে।
এ ইউ/














Discussion about this post