তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রচার) মো: শাহ আলম বলেছেন, বাংলাদেশে তামাক ও সিগারেট খাত থেকে সরকার প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে। কিন্তু ধূমপানের ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয় প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা। শুধু অর্থ নয় স্বাস্থ্যেরও ক্ষতির পরিমাণ অনেক। এ ক্ষতি মোকাবিলায় ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার পুরোপুরি নির্মূল করা না গেলেও নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) তথ্য অধিদফতর এবং মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস)-এর যৌথ আয়োজনে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন ২০২৬ বাস্তবায়নে করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাটক, সিনেমার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ধূমপানের প্রচারণা হয়ে থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে নীতিমালা তৈরির কাজ করছে সরকার।
তিনি জানান, শীঘ্রই এ সংক্রান্ত নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার কমাতে তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, ধূমপান ও তামাকবিরোধী আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে চলে আসছে । এ আন্দোলনকে আরো বেগবান ও সফল করতে তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, সারা দেশে কর্মরত তথ্য অফিসাররা ধূমপান বিরোধী কার্যকর প্রচার চালাবেন। জনমত তৈরি ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পক্ত করা গেলে ধূমপান বিরোধী আন্দোলন সফল হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচক ও মানসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. অরুপরতন চৌধুরী জানান, দেশে প্রতি বছর প্রায় দু্ই লাখ মানুষ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের কারণে মারা যায় । প্রায় ১২ লাখ মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হয় ও এক লাখ মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেন। দিন দিন এ ভয়াবহতা বাড়ছে। মুখের ক্যান্সারসহ নানা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান পৃথিবীতে উপরের দিকে রয়েছে। এ অবস্থার পরিবর্তনের জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি।
তিনি বলেন, আইন না মেনেই নাটক, সিনেমা, ওটিটি কনটেন্টে ধূমপানের দৃশ্য দেখানো হচ্ছে। এর ফলে তরুণ সমাজ ধূমপান ও মাদকের প্রতি আগ্রহী হয়ে পড়ছে । সৃজনশীলতা ও শিল্পের স্বার্থে ধূমপানের দৃশ্য দেখানোর যে যুক্তি দেখানো হয় তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয় । চলচ্চিত্র ছাড়পত্র প্রদানের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি আরো জোরালোভাবে বিবেচনায় নেয়ার দাবিও জানান তিনি ।
সভায় ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন ২০২৬ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেসরকারি সংগঠন ভাইটাল স্ট্রাটেজিস-এর টেকনিক্যাল এডভাইজার আমিনুল ইসলাম সুজন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে তথ্য অধিদফতরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, ভাইটাল স্ট্রাটেজিস এর ম্যানেজার (তামাক নিয়ন্ত্রণ) ফাহমিদা ইসলাম, মাদক বিরোধী সংগঠন প্রত্যাশা’র সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ, বিইআর-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প পরিচালক হামিদুল ইসলাম হিল্লোল, টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ সেল এর প্রকল্প সমন্বয়কারী ফারহানা জামান লিজা, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা সামিউল হাসান সজীব প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সভায় বাংলাদেশ তথ্য অধিদফতরের ৪০ এর অধিক কর্মকর্তা ও তামাক বিরোধী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ অংশ নেন।
এস আই/














Discussion about this post