রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের ন্যাম ভবনে ১৯ বছর বয়সী তরুণী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার স্বামী সংসদ সদস্য জিএম নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী এবং এক স্বজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা হয়েছে। নিহত তরুণীর বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় এই মামলা দায়ের করেন। তার অভিযোগ, স্বামী ও তার প্রথম স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং আসামিদের প্ররোচনার কারণে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে দায়ের করা এই মামলায় ৭৫ বছর বয়সী সংসদ সদস্য জিএম নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলাম (৬৫) এবং মরিয়মের মামা মো. ওবায়দুর রহমানকে (৩৮) আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাসে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক জিএম নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। নজরুল ইসলাম সংসদ সদস্য হওয়ায় তিনি প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ও দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে নিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। বিয়ের পর থেকেই নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে মেয়েটি মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন।
এজাহারে মরিয়মের বাবা উল্লেখ করেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল ইসলাম ফোন করে তাকে দ্রুত ওই বাসায় যেতে বলেন। তিনি স্বজনদের নিয়ে ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখতে পান ভেতর থেকে একটি কক্ষের দরজা বন্ধ এবং উপস্থিত লোকজন তাকে জানান মরিয়ম ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছেন। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে গণপূর্তের এক কর্মীর সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ফ্যানের সঙ্গে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়।
ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে মরিয়মের বিছানা থেকে তার হাতে লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করে পুলিশ। তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ফজলুল করিম বলেন, ‘মরিয়ম যে কক্ষে থাকতেন, সেখান থেকে তার লেখা কিছু চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে।’
এজাহারে চিরকুটের বরাত দিয়ে বলা হয়, সেখানে মরিয়ম লিখেছেন, ‘শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই…।’ চিরকুটে তিনি আরও লেখেন, ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম, তার সাথে জিততে পারিনি, হেরে গেলাম ময়দানে।’
চিরকুটের আরেক অংশে তরুণীটি লিখেছেন, ‘যুদ্ধের শেষ প্রান্তে যেয়ে দেখি তুমি তো ছিলে বিপক্ষের সেনাপতি। আমি হেরেছি, তুমি জিতেছ; কারণ আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছ।’
মরিয়মের বাবা এজাহারে আরও অভিযোগ করেন, তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়েছিল। পরে স্বামী ও তার প্রথম স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং আসামিদের প্ররোচনার কারণে মরিয়ম আত্মহত্যা করে।
তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ফজলুল করিম জানান, মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে। সংসদ সদস্য হওয়ায় কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে গিয়ে সময় লাগছে।
এর আগে পুলিশ মরিয়মের মরদেহ উদ্ধারের পরই এমপি নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নিয়েছিল।
এ ইউ/














Discussion about this post