ইসলামে দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক নয় বলে জানিয়েছেন আলেমরা। তাদের মতে, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই কেউ দ্বিতীয় বিয়ে করলে সেই বিয়ে শরিয়তসম্মতভাবে শুদ্ধ হবে। তবে একাধিক বিয়ের অনুমতির সঙ্গে কঠোর কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইসলাম।
ইসলাম একাধিক বিয়ের অনুমতি দিয়েছে এই শর্তে যে, স্বামীকে সব স্ত্রীর প্রতি সমান অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কোনো স্ত্রীর প্রতি অবহেলা বা বৈষম্যের আশঙ্কা থাকলে একাধিক বিয়ে করা জায়েজ নয়।
পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে দুই, তিন বা চারটি পর্যন্ত বিয়ে করা যাবে; তবে যদি ন্যায়বিচার করতে না পারার আশঙ্কা থাকে, তাহলে একটিতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে।
হাদিসে একাধিক স্ত্রীর প্রতি বৈষম্যের বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যার একাধিক স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও একজনের প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়ে, কিয়ামতের দিন সে বিকলাঙ্গ অবস্থায় উপস্থিত হবে।
আলেমরা আরও বলেন, যদিও শরিয়তের দৃষ্টিতে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়, তবে নৈতিক ও পারিবারিক দায়িত্বের জায়গা থেকে স্বামীর উচিত দ্বিতীয় বিয়ের প্রয়োজনীয়তা স্ত্রীকে বোঝানো এবং তার সম্মতি নেওয়ার চেষ্টা করা। কারণ স্ত্রীর প্রতি সদাচরণ, সহানুভূতি ও সম্মান দেখানো ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা।
সুরা নিসার ১৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা দাম্পত্য জীবনে দয়া ও সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। একইভাবে রাসুল (সা.) বলেছেন, চরিত্রের দিক থেকে উত্তম মুমিন সেই ব্যক্তি, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম আচরণ করে।
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, একাধিক বিয়ে কোনো সাধারণ বিষয় নয়; বরং এটি দায়িত্ব ও ন্যায়বিচারের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই শরিয়তের বিধান মানার পাশাপাশি পারিবারিক শান্তি ও মানবিক দিক বিবেচনায় রেখেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
এস এইচ/














Discussion about this post