যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের টাম্পা শহরে প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার সুযোগ। নগর কর্তৃপক্ষের দুটি পৃথক কর্মসূচির আওতায় যোগ্য ক্রেতারা এই সুবিধা পেতে পারেন। তবে সবাই এই অর্থ পাবেন না। পারিবারিক আয়, বাড়ির অবস্থান এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করবে সহায়তার পরিমাণ।
টাম্পা নগর কর্তৃপক্ষের দুটি কর্মসূচি হলো ‘ডেয়ার টু ওন দ্য ড্রিম’ এবং ‘কমিউনিটি রিডেভেলপমেন্ট এরিয়া’ বা সিআরএ ডাউন পেমেন্ট সহায়তা কর্মসূচি।
প্রথম কর্মসূচির আওতায় যোগ্য ক্রেতারা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পেতে পারেন। অন্যদিকে, নির্ধারিত পুনর্গঠন এলাকার মধ্যে বাড়ি কিনলে দ্বিতীয় কর্মসূচির আওতায় আরও সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। উভয় কর্মসূচির শর্ত পূরণ করলে মোট সহায়তা ১ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত নগর কর্তৃপক্ষের এক প্রতিবেদনে এমন একজন ক্রেতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়, যিনি দুটি কর্মসূচির সহায়তা মিলিয়ে মোট ১ লাখ ডলার পেয়েছেন।
‘ডেয়ার টু ওন দ্য ড্রিম’ কর্মসূচির আওতায় সহায়তা পেতে বাড়িটি অবশ্যই টাম্পা নগরসীমার মধ্যে হতে হবে। পরিবারের আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হবে এবং বাড়ির ক্রয়মূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি হওয়া যাবে না। এছাড়া অনুমোদিত আবাসন পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। বাড়ি কেনার চুক্তি করার আগেই কর্মসূচির নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।
অন্যদিকে, সিআরএ কর্মসূচির জন্য বাড়িটি টাম্পার নির্ধারিত কমিউনিটি পুনর্গঠন এলাকার সীমানার মধ্যে অবস্থিত হতে হবে। শুধু নির্দিষ্ট ডাক-সংকেত বা জিপ কোডের আওতায় পড়লেই হবে না; বাড়িটির প্রকৃত অবস্থান সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যে কি না, তা যাচাই করতে হবে। এ ক্ষেত্রেও পারিবারিক আয়, ক্রেতার যোগ্যতা, নিজস্ব অর্থ বিনিয়োগ এবং অনুমোদিত ঋণের ধরনসহ বিভিন্ন শর্ত রয়েছে।
নগর কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্ধারিত এলাকার মধ্যম পারিবারিক আয়ের তুলনায় আবেদনকারীর আয়ের স্তর বিবেচনা করে সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।
- আয় মধ্যম পারিবারিক আয়ের ৫০.০১ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে হলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার।
- আয় ৮০.০১ থেকে ১২০ শতাংশের মধ্যে হলে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ডলার।
- আয় ১২০.০১ থেকে ১৪০ শতাংশের মধ্যে হলে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ডলার।
তবে এসব আয়সীমা পূরণ করলেই সহায়তা নিশ্চিত নয়। কর্মসূচির অন্যান্য শর্তও পূরণ করতে হবে।
না, এই অর্থকে সরাসরি নগদ অনুদান হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। সাধারণত শূন্য সুদের বিলম্বিত পরিশোধযোগ্য ঋণের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হয়। নির্ধারিত শর্ত মেনে বাড়িটিকে নিজের প্রধান বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করলে ২০ বছর পর ঋণ মওকুফের সুযোগ থাকতে পারে।
তবে বাড়ি বিক্রি, মালিকানা পরিবর্তন কিংবা বসবাসের শর্ত ভঙ্গ করলে ভিন্ন নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে ঋণের চুক্তি ও মওকুফের শর্ত ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি।
প্রথমবার বাড়ি কিনতে গিয়ে যারা প্রাথমিক অর্থের জোগান দিতে সমস্যায় পড়েন, তাদের জন্য টাম্পার এই কর্মসূচি সহায়ক হতে পারে। তবে সহায়তার পরিমাণ, তহবিলের প্রাপ্যতা ও আবেদনের নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।
তাই আবেদন করার আগে টাম্পা নগর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা অনুমোদিত আবাসন পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বর্তমান যোগ্যতা, আবেদনপ্রক্রিয়া ও তহবিলের অবস্থা নিশ্চিত করা উচিত।
এস আই/













Discussion about this post