কুমিল্লা সার্কিট হাউসের বরাদ্দকৃত কক্ষজুড়ে উইপোকার উপদ্রব দেখে রাগ ও ক্ষোভে সেখানে রাত্রিযাপন না করে অন্যত্র চলে গেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবর রহমান।
তিনি বলেন, ১১ দলীয় লংমার্চ উপলক্ষে শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে পৌঁছান কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তার রাত্রিযাপনের জন্য সার্কিট হাউসের ‘রাধাচূড়া-২০২’ নম্বর কক্ষটি বরাদ্দ করা হয়। রাত ১০টার দিকে ওই কক্ষে বিশ্রাম নিতে গিয়ে তিনি কক্ষজুড়ে প্রচুর উইপোকা দেখতে পান। এমনকি কক্ষের আসবাবপত্র ও কম্বলও উইপোকার উপদ্রব থেকে রেহাই পায়নি।
এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে কক্ষ পরিবর্তনের ব্যবস্থা করতে বলেন ডা. তাহের। পাশাপাশি একটি কম্বলও চান তিনি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন এই জামায়াত নেতা।
পরে বিরোধীদলীয় উপনেতার এপিএস আরিফুর রহমান মুঠোফোনে বিষয়টি কুমিল্লার নেজারত ডেপুটি কালেক্টরকে (এনডিসি) জানান। এরপরও কার্যকর কোনও ব্যবস্থা না হওয়ায় একপর্যায়ে সার্কিট হাউস ছেড়ে অন্যত্র রাত্রিযাপনের সিদ্ধান্ত নেন ডা. তাহের।
এ দিকে কক্ষে উইপোকার উপস্থিতির বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও ইতোমধ্যে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘কুমিল্লা সার্কিট হাউস একটি সুসজ্জিত ও আধুনিক মানের ভবন। এটি দেখভালের জন্য সরকারি জনবলও রয়েছে। কিন্তু ভিআইপি অতিথিদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সেখানে উইপোকার বেশ দাপট দেখা গেছে। অপেক্ষা করেও বিকল্প কক্ষ না পাওয়ায় ডা. তাহের সার্কিট হাউস ছেড়ে অন্যত্র রাত্রিযাপন করেছেন।’
তবে জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নতুন সার্কিট হাউসে আরও কক্ষ খালি ছিল। কিন্তু অন্য একটি কক্ষের চাবি আনতে দেরি হওয়ায় ডা. তাহের সার্কিট হাউস ছেড়ে চলে যান।
এ বিষয়ে কুমিল্লার নেজারত ডেপুটি কালেক্টরের (এনডিসি) সরকারি নম্বরে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।
এ ইউ/














Discussion about this post