ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫ জনে এবং ১ হাজার ৫ শতাধিক মানুষকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারোদোর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় দেশটিতে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন জায়গায় শতশত ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে।
দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী কারলোস আলভ্যারাডো জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া অনেক মানুষ হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা গেছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুঃখজনকভাবে অন্তত ২৩৫ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, যারা হয় আগেই মারা গিয়েছিলেন, নয়তো হাসপাতালে আনার পথেই প্রাণ হারিয়েছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটের দিকে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর কয়েক মুহূর্তের মধ্যে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে ভেনেজুয়েলায়। দুই ভূমিকম্পের মাঝখানে সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৪০ সেকেন্ড বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ইউএসজিএস। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের পর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের জিওলোকেশন করা একাধিক ভিডিওতে ভেনিজুয়েলা জুড়ে ভবন ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে, যার মধ্যে রাজধানী কারাকাস এবং উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মারও রয়েছে। সেখানে একটি পাহাড়ের ঢালে বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন ধসে পড়তে দেখা গেছে। বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, আতঙ্কিত বাসিন্দারা তাদের প্রিয়জন ও পোষা প্রাণীসহ বহুতল ভবনগুলো থেকে দ্রুত বেরিয়ে এসে রাস্তায় জড়ো হচ্ছেন।
তীব্র আতঙ্কিত ও ঘরবাড়ি হারানো এসব মানুষ পরবর্তী আফটারশকের ভয়ে সারারাত খোলা আকাশের নিচে বাইরে কাটিয়েছেন।
বেশ কয়েকটি দেশ উদ্ধারকাজে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ১৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তার অঙ্গীকার করেছে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী উদ্ধারকারী দল এবং পরিবহন জাহাজ ও উড়োজাহাজ পাঠাচ্ছে।
ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ জানান, প্রায় ২৫০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, যার বেশিরভাগই লা গুয়াইরা শহরে।
এস আই/













Discussion about this post