দুইদিন আগে বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং ভোট চুরির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে আটকও হয়েছিলেন ভারতের লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এবার তিনি বিহারের ভোটার তালিকায় মৃত বলে নাম বাদ পড়া সাতজন ভোটারের সঙ্গে চা খেয়ে অনন্য এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সেই ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। রাহুল নিজেও ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছেন। চার মিনিটের সেই ভিডিওতে দেখা যায়, চারজন নারী ও তিনজন পুরুষ ভোটারের সঙ্গে কথা বলছেন রাহুল। তাদের হাতে চা তুলে দিচ্ছেন। সকলে মিলে চা পান করছেন। তার আগে সকলের সঙ্গে কথাও বলেন রাহুল।
কংগ্রেস নেতা তাদের হাতে চা তুলে দিয়ে তাদের সঙ্গে কথাও বলছেন। পরে, তিনি তাদের স্বাগত জানিয়ে অফিসের ঘরে নিয়ে যান এবং সেখানে একটি দীর্ঘ টেবিলের চারপাশে সবাই বসেন।
রাহুল প্রশ্ন করেন, শুনলাম, আপনারা আর বেঁচে নেই। এর পর একজন উত্তর দেন, আমাদের মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
রাহুল আবার প্রশ্ন করেন, কীভাবে জানলেন? উত্তরে ওই ব্যক্তি জানান, ভোটার তালিকা পরীক্ষা করে দেখলাম। এরপর, ভিডিওতে রামইকবাল রায়ের ভোটার কার্ডটি দেখানো হয়, যা ১৯৫৯ সালে জন্ম নেয়া এক ব্যক্তির এবং সেখানে তার বাবার নাম লক্ষ্মী রায় উল্লেখ করা আছে।
কংগ্রেস নেতা এরপর বলেন, আপনারা ভোটার তালিকা পরীক্ষা করে দেখলেন এবং আপনাদের মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন আপনাদের মেরে ফেলেছে? আপনাদের কী মনে হয়, এভাবে কত মানুষকে মৃত ঘোষণা করা হতে পারে? একজন উত্তরে বলেন, একটা পঞ্চায়েত এলাকায় অন্ততপক্ষে ৫০ জনের এমন হাল হয়েছে।
তারা জানান, তারা সবাই একই বুথের ভোটার নন। বরং বিভিন্ন বুথে ভোটার ছিলেন এবং সেখানে আরও অনেকের নাম এইভাবে বাদ পড়েছে। একজন ভোটার জানান, নির্বাচন কমিশনের কর্মীরা তার বাড়িতে এসেছিলেন এবং নথিপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। তার কাছ থেকে আধার কার্ড, ব্যাংক পাসবইয়ের ফটো কপি এবং ছবি নিয়ে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছিলেন, তবে পরে তাকে মৃত ঘোষণা করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেয়া হয়েছে।
রাহুল তার জবাবে বলেন, আরজেডি এবং আমাদের দল মিলে আমরা এটা বন্ধ করার চেষ্টা করছি। এরপর তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বন্ধ করে দেব, বন্ধ করে দেব। ভোট চুরি হতে দেব না।
পরে এই ভিডিওটি রাহুল গান্ধী তার এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে লেখেন, ‘জীবনে কখনো মৃত ব্যক্তিদের সঙ্গে চা খাওয়ার সুযোগ হয়নি। এই অনুভূতির জন্য নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
কংগ্রেস পরে ওই সাতজন ‘মৃত’ ভোটারের নাম প্রকাশ করে। তারা হলেন- রামিকবাল রায়, হরেন্দ্র রায়, লালমুনি দেবী, বাচিয়া দেবী, লালওয়াতি দেবী, পুনম কুমারি ও মুননা কুমার। তারা সবাই রাঘোপুরের বাসিন্দা।
রাহুল গান্ধী এর আগে অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি একযোগে ভোট কারচুপির চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্রের নির্বাচনে গত বছর এমন ঘটনা ঘটেছে ও এবার বিহারেও সেই পরিকল্পনা চলছে।
তবে নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ নাকচ করে রাহুল গান্ধীকে প্রমাণসহ হলফনামা জমা দিতে বলেছে। কমিশন অভিযোগ করেছে, কংগ্রেস জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
এম এইচ/














Discussion about this post